আবাহনীর বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়াল মোহামেডান

দুটি পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে মোহামেডানকে সমতার স্বস্তি এনে দেন অধিনায়ক সুলেমানে দিয়াবাতে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2024, 11:23 AM
Updated : 23 Feb 2024, 11:23 AM

ঘড়ির কাঁটায় তখন এক মিনিট ৩৫ সেকেন্ড। দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোল করলেন ব্রুনো গনসালভেস রোকা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জয়ের পথে এগোচ্ছিল আবাহনী। কিন্তু, নাটকীয়তার তখনও ঢের বাকি। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ ধরে রেখে দুটি পেনাল্টি আদায় করে নিল মোহামেডান। দুটি থেকেই লক্ষ্যভেদ করলেন সুলেমানে দিয়াবাতে। আবাহনীর মুঠো গলে বেরিয়ে গেল জয়। 

ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ শেষ হয় ২-২ সমতায়। এ নিয়ে চলতি প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচ ড্র করল মোহামেডান। টানা দ্বিতীয় ড্র আবাহনীর। 

৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে মোহামেডান। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে তৃতীয় স্থানে। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে এক ম্যাচ কম খেলা বসুন্ধরা কিংস। 

দ্বিতীয় মিনিটেই চোখ ধাঁধানো গোলে আবাহনীকে এগিয়ে নেন ব্রুনো। বক্সের বাঁ দিক থেকে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ফ্রি কিকে বল বাতাসে ভেসে লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষক সুজন চৌধুরীকে বোকা বানিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়।

শুরুর ওই ঝলকের পর আবাহনী যেন একটু মিইয়ে যায়। একের পর এক আক্রমণ শাণাতে থাকে মোহামেডান। একাদশ মিনিটে মোজাফ্ফরভের ফ্রি কিক ক্রসবারের উপরের দিকে লেগে বেরিয়ে যায়। ছয় মিনিট পর বক্সে জটলার ভেতর থেকে রিয়াদুল রাফির শট আটকে আবাহনীর ত্রাতা পাপ্পু হোসেন। 

২৩তম মিনিটে বক্সের একটু বাইরে দিয়াবাতেকে ফাউল করেন মিলাদ শেখ সুলেমানি। মোজাফ্ফরভের ফ্রি কিক যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। ৩৮তম মিনিটে মোজাফ্ফরভের ভলি ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন পাপ্পু। 

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মোহামেডান। ৫১তম মিনিটে মোজাফ্ফরভের ফ্র কিকে এমানুয়েল টনির দূর্বল হেড সহজে আটকান পাপ্পু। 

খেলার ধারার বিপরীতে ৫৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আবাহনী। ওয়াশিংতন ব্রান্দাওয়ের ক্রসে দূরের পোস্টে ব্রুনো হেড করেছিলেন। টনি সামনে থাকায় গোলরক্ষক সুজন বলের গতিবিধি ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি। ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দিয়ে কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট। 

ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়া শুরু ৬৭তম মিনিটে। ক্রস ক্লিয়ার করতে হেড করেছিলেন রেজাউল ইসলাম রেজা, কিন্তু বল চলে যায় বক্সে এমানুয়েল সানডের পায়ে। তাকে পেছন থেকে মোহাম্মদ হৃদয় ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দিয়াবাতে সফল স্পট কিকে মোহামেডানকে এনে দেন ম্যাচে ফেরার উপলক্ষ।

৭২তম মিনিটে ব্রুনোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। 

৮৬তম মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি থেকে দিয়াবাতে লক্ষ্যভেদ করলেও, তার এক সতীর্থ আগেই বক্সে ঢুকে পড়ায় ফের শট নিতে হয় মোহামেডান অধিনায়ককে। দ্বিতীয় দফাও পাপ্পুকে পরাস্ত করেন তিনি।

বক্সে আবাহনীর একজনের হাতে বল লাগলে ওই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি সাইমুন হাসান। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে উত্তাপ ছড়ায়। আবাহনীর ডাগআউট থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে রেফারির উদ্দেশ্যে। সহকারী রেফারির সঙ্গে আলোচনা করে সাইমুন এসে লাল কার্ড দেখান আবাহনীর ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে। তাতে জয় হাতছাড়া হওয়ার সঙ্গে লাল কার্ডের আচড়ও লাগে আবাহনীর।