Published : 03 Jun 2026, 12:07 PM
১৭ বছর বয়সী আনকোরা এক ছেলে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে যা করেছিলেন, ফুটবল ইতিহাসে এখনও তা রূপকথা হয়ে আছে। তার নামটি নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না! তুমুল তোলপাড় তুলে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার পথে ফাইনালে দুটি গোল করেছিলেন পেলে। সেই ফাইনালে যে জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি, সেটিই এখন উঠছে নিলামে।
গোটা বিশ্ব যখন ভাসবে বিশ্বকাপ জোয়ারে, সেই সময়ই চলবে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন বলে বিবেচিত এই তারকার গৌরবের স্বাক্ষী হয়ে থাকা স্মারকটির নিলাম। আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই নিলাম চলবে বলে জানিয়েছে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোদেবি’জ।
চারু ও আলংকারিক শিল্পকর্ম, গহনা এবং সংগ্রাহ্য বস্তুর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এই সোদেবি’জ।
সোদেবি’জ-এর আধুনিক সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর প্রধান ব্রাম ওয়াখটার বিবৃতিতে বলেন, “ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের একজন তার রাজত্ব শুরুর রাতে তিনি এই পোশাকটিই পরেছিলেন।”
ধারণা করা হচ্ছে, ৬০ লাখ ডলার পর্যন্ত দাম উঠতে পারে জার্সিটির। সেক্ষেত্রে এটি হবে পেলের স্মৃতিচিহ্নগুলোর মধ্যে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে মূল্যবান স্মারক।

১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের সবকিছুই ফুটবলের চিরন্তন গল্পগাঁথার অংশ হয়ে আছে। হাঁটুর চোট থাকার পরও তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরেই বসেছিলেন। পরের ম্যাচেও তার খেলার কথা ছিল না। কিন্তু কোচ তাকে মাঠে নামান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই ম্যাচে দলের জয়ে একটি গোলে সহায়তাও করেন তরুণ এই প্রতিভা।
কোয়ার্টার-ফাইনালে দলের জয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরারের রেকর্ডও গড়েন। বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেন তিনি সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করে। পরে ফাইনালেও দলের বিশাল জয়ে দুটি গোল করেন তিনি।
সেদিন প্রথম গোলটিকে এখনও মনে করা হয় বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলগুলির একটি। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে, একজন সুইডিশ ডিফেন্ডারের ওপর দিয়ে তুলে দিয়ে গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের প্রায় শেষ দিকে হেড থেকে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার এখনও তিনিই।
সেই ফাইনালের জার্সিটি পেলে পরে উপহার দেন তার রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে। হাতে তৈরি জার্সিটি কয়েক দশক ধরে দিদার পরিবারের কাছে ছিল, এরপর একটি ব্রাজিলিয়ান জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয় এবং অবশেষে ২০০৪ সালে এটি কিনে নেন এর বর্তমান মালিক, যিনি পরিচয় গোপন রেখেছেন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে মারা যান তিনটি বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার এই কিংবদন্তি।