বারবার বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেওয়া এই পর্তুগিজের পাশে দাঁড়িয়ে তার ক্লাব ফেনারবাচে উল্টো প্রতিপক্ষ দলের কোচের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
Published : 04 Apr 2025, 04:29 PM
তুরস্কে যাওয়ার পর থেকে বিতর্কের সঙ্গে সখ্যতা যেন আরও বেড়েছে জোসে মরিনিয়োর। প্রায়ই অদ্ভূত সব কাণ্ড ঘটাচ্ছেন তিনি। পাচ্ছেন শাস্তিও। এত এত বিতর্ক তৈরির মাঝেও ক্লাবকে অবশ্য পাশে পাচ্ছেন এই পর্তুগিজ কোচ। সবশেষ, গালাতাসারাইয়ের কোচ ওকান বুরুকের নাক চেপে ধরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন মরিনিয়ো; তবে তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ কোচের দিকেই তীব ছুড়েছে ক্লাব ফেনারবাচে।
বুরুকের কড়া সমালোচনা করে ফেনেরবাচে বলেছে, ‘সে এমন ভাব করেছে যেন গুলি খেয়েছে।’ কড়া ভাষায় দেওয়া বিবৃতিতে, বুরুকের বিরুদ্ধে ‘হাত দিয়ে নানা রকমের অসম্মানজনক অঙ্গভঙ্গি করার স্পর্ধা দেখানোর’ অভিযোগ করা হয়েছে। আর এটা তিনি মরিনিয়োকে উত্তক্ত করার জন্যই করেছেন এবং জবাবে এই পর্তুগিজ কোচ প্রতিপক্ষের নাক ‘হালকা স্পর্শ করেছেন’ বলে বিবৃতিতে লিখেছে ফেনেরবাচে।
তুর্কি কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে বুধবার তুমুল উত্তেজনা ছড়ানো এই লড়াইয়ে ২৭ মিনিটের মধ্যে ভিক্টর ওসিমেনের জোড়া গোলে দুই দফায় এগিয়ে যায় গালাতাসারাই। ফেনারবাচে প্রথমার্ধে একটি গোল ফিরিয়ে দিলেও, শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যায় ২-১ ব্যবধানে।
তুরস্কের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের আগের বহু লড়াইয়ের মতো এ দিনও ম্যাচজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে। খেলা বন্ধ হয়েছে দফায় দফায়। পুলিশ নামিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়। হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে দুই দলের তিন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো হয় ম্যাচের শেষ দিকে।
ম্যাচ শেষেও সেসবের রেশ ছিল। কিছু একটা বলতে বলতে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন বুরুক। মরিনিয়ো তখন ছিলেন ফুটবলার ও স্টাফদের সঙ্গে একই সারিতে। সেখান থেকে তেড়ে গিয়ে বুরুকের নাক চেপে ধরেন ফেনারবাচে কোচ। খুব বেশিক্ষণ অবশ্য চেপে ধরে রাখেননি। বুরুকও মুখ সরিয়ে নেন দ্রুত। তবে পরমুহূর্তেই নাটকীয়ভাবে মাঠে পড়ে যান গালাতাসারাই কোচ।
পরে গালাতাসারাইয়ের পক্ষ থেকে মরিনিয়োর বিরুদ্ধে তাদের কোচকে ‘শারীরিকভাবে আক্রমণের’ অভিযোগ আনা হয়। তবে ফেনারবাচে মনে করে, আলোচিত ঘটনার দায় বুরুকের।
“এটা (বুরুকের) একটা পরিকল্পিত উস্কানি এবং পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওই ব্যক্তি এমন অভিনয় করেছে যেন তাকে গুলি করা হয়েছিল এবং পেশাদারের (অভিনেতার) মতো সে মাটিতে পড়ে যায়। তার বলা অসম্মানজনক কথা ও কাণ্ডগুলো ভিডিওতে ধরা পড়েছে।”
“নাকে ছোঁয়া লাগামাত্র কারো এভাবে মাটিতে পড়ে যাওয়া এবং গড়াগড়ি খাওয়া হাস্যকর ব্যাপার। এই ব্যক্তির (সামান্য কারণে) এভাবে মাটিতে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা তার খেলোয়াড়ি জীবনেও দেখা গেছে এবং কোচিং ক্যারিয়ারেও তা চলমান-আর এতেই প্রমাণ হয় যে এটা তার আচরণগত বৈশিষ্ট্য।”
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বুরুক।
“আমি যখন চলে যাচ্ছিলাম, সে পেছন থেকে এসে আমার নাক পিষে দেয়। হালকা একটু আঁচড় লেগেছে নাকে। অবশ্যই এটা খুব ভালো ও স্টাইলিশ কিছু নয়! আমি বাড়িয়ে বলতে চাই না, তবে খুব স্টাইলিশ কিছু ছিল না এটি।”
গালাতাসারাই ক্লাবের সহ-সভাপতি মেতিন ওজতুর্কের প্রতিক্রিয়া অবশ্য ছিল ভীষণ কড়া। মরিনিয়োর আগের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে একহাত নেন তিনি।
“তার (মরিনিয়োর) সাম্প্রতিক এই ঘটনা শুধু গালাতাসারাইয়ের কোচের ওপরই নয়, তুর্কি ফুটবলের ওপরও আক্রমণ। এটাই মরিনিয়ো… জানি না, এত সাহস সে পায় কোথায়! দুনিয়ার আর কোথায় গিয়ে সে এরকম করতে পারবে! তুরস্ক কোথায় বলে সে মনে করে!।”