`স্পেশালি ভারতের বিপক্ষে শতভাগের চেয়েও বেশি দিয়ে খেলব’
মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য খরা কাটানোর ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।
না পারার হতাশা যেমন আছে, পাওয়ার আশাও আছে তেমনি। বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও স্বপ্ন দেখছেন। দেখাচ্ছেনও। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মিশন শুরুর আগে জানালেন নিজেদের ভাবনা, পরিকল্পনা। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যেতে চান তিনি। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল ভারতের মুখোমুখি হলে নিংড়ে দিতে চান সামর্থ্যের শতভাগের চেয়েও বেশি।
সাবিনার এমন চাওয়ার কারণ ব্যর্থতায় মোড়ানো পরিসংখ্যান। প্রতিযোগিতাটির গত পাঁচ আসরে বাংলাদেশ কখনই হারাতে পারেনি ভারতকে। ২০১৬ সালে শিলিগুঁড়ির আসরে গ্রুপ পর্বে দলটির সঙ্গে ড্র করাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্জন। সেবারই ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে প্রথম রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ।
গত মার্চে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশ দলের অনেকে আছেন এবারের সাফ মিশনে। সব মিলিয়ে ভারত গেরো ছুটাতে না পারার ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবে তাড়া করে ফিরছে দলকে। এবার গ্রুপ পর্বেই দেখা হবে ভারতের সঙ্গে, ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তারাও যাচ্ছে নেপালে।
ব্যক্তিগত হিসাব মেলানোর আছে সাবিনারও। সাফের সবগুলো আসরে খেলার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডও মুখিয়ে আছেন ভারতের সিনিয়র টিমের বিপক্ষে আজও না পাওয়া জয়ের স্বাদ নিতে। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে সাবিনা জানিয়ে রাখলেন ব্যর্থতার বলয় থেকে বেরিয়ে আসার করণীয়টুকু। ফিফার নিষেধাজ্ঞা এবং তা উঠে যাওয়া ভারতের খেলোয়াড়দের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন তিনি।
“(ফিফার নিষেধাজ্ঞা) যদি খারাপ কিছু হয়, তখন সেটা একজন খেলোয়াড়ের মধ্যে দুই-তিন দিন থাকে। আমি নিজেও এর ভুক্তভোগী। প্লেয়াররা আসলে প্লেয়ারই। ভারত সবসময় শক্তিশালী, মাঝের সময়ে আমরাও উন্নতি করেছি….বোঝাই যাচ্ছে, এই সময়ে ভারত আরও কত বেশি উন্নতি করেছে। তারপরও কোচ আমাদের সবসময়ই বলেছে পিছিয়ে থাকার কারণ নেই। অবশ্যই ম্যাচ বাই ম্যাচ আমাদের ভালো করার লক্ষ্য থাকবে এবং স্পেশালি ভারতের বিপক্ষে আমরা শতভাগের চেয়েও বেশি দিয়ে খেলব।”
“সাফ আমাদের জন্য বড় টুর্নামেন্ট। আমরা আশাবাদী। দলের পারিপার্শ্বিক দিক যদি দেখেন, একজন খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে আমি আশাবাদী। সবশেষ যে সাফ আমরা খেলেছি, তার চেয়ে এবার গেম বলুন, পারফরম্যান্স বলুন, ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী। যেহেতু আমরা বড় একটা টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছি, দেশবাসীর কাছে আমার চাওয়া-আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা ভালো ফল নিয়ে ফিরতে পারি।”
সাবিনা, কৃষ্ণা রানী সরকার, সিরাত জাহান স্বপ্না ও সানজিদা খাতুন ছাড়া অধিকাংশের বয়স ২০ বছর বা তারও নিচে, বয়সভিত্তিক দলের। তবে অনেকের জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে। তাই নিজের দলকে অভিজ্ঞতায় কোনোভাবেই পিছিয়ে রাখছেন না অধিনায়ক।
“প্রথমত বলা হয়, আমাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা কম, কিন্তু এই বিষয়টি যদি আমি বলি, তাহলে হয়ত শোভা পাবে না। কেননা, দেখা যাচ্ছে সিনিয়র টিমের চেয়ে আমাদের বয়সভিত্তিক দলগুলো অনেক বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেলেছে। আমার মনে হয়, তারা একটা কমপ্যাক্ট টিমে ছিল, সেখান থেকে সিনিয়র টিমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।”
২০১৯ সালের সাফের সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর করোনাভাইরাসের থাবায় বন্ধ ছিল মেয়েদের খেলাধুলাও। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সাবিনা-মারিয়ারা খেলে নেপাল, ইরান জর্ডান, হংকং ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। সবশেষ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচের সিরিজে ৬-০ গোলে জয়ে শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে করেছিল গোলশূন্য ড্র।
মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে এক গোল করেছিলেন সাবিনা। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ গোলও তার। সাফেও এই তারকা ফরোয়ার্ডের গোল আছে ১৬টি। ষষ্ঠবারের মতো সাফ মিশনে নামার আগে জানালেন গোল ক্ষুধা আগের মতোই অটুট থাকার কথা।
“প্রথমত একটা বিষয় হচ্ছে, (প্রতিপক্ষ) কোচদের কাছ থেকে যখন আপনি নিজেকে নিয়ে ইতিবাচক কোনো মন্তব্য পাবেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। সেটা আপনার জন্য ইতিবাচক দিক। সাউথ এশিয়ার অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের আমি চিনি, তাদের ব্যাপারে কোচদের সঙ্গে আমার কথা হয়। আমিও আমার সতীর্থদের বলতে পারব কে কেমন খেলে, তাদের শক্তি-দুর্বলতার জায়গা নিয়ে আলোচনা করব। স্ট্রাইকার হিসাবে সবসময় আমার গোলের ক্ষুধা থাকে। আমি চেষ্টা করব আমার জন্য এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চটুকু দিয়ে খেলার।”
আগামী ৭ সেপ্টেম্বরে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে দল।
