‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ ডি ইয়ং
বার্সেলোনার মিডফিল্ডারের স্পষ্ট উচ্চারণ, মিথ্যা কিছু ছড়ানো হলে তিনিও ছেড়ে কথা বলবেন না।
ফ্রেংকি ডি ইয়ংয়ের অভিযোগ, তাকে নিয়ে অনেক ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছে, যা তাকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত করেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ সাংবাদিক জেরার্দ রোমেরোর তীব্র সমালোচনা করেছেন বার্সেলোনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
রোমেরো দাবি করেন, ডি ইয়ং গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের সাথে এই ডাচ খেলোয়াড়ের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে এবং ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও তার সম্পর্ক ভালো নয়।
শুক্রবার ক্লাবের অফিসিয়াল চ্যানেলে ডি ইয়ং বলেন, রোমেরোর কিছু ‘মিথ্যা’ প্রতিবেদন তাকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
“আমাকে ঘিরে অনেক শোরগোল এবং প্রচুর ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। এসব আমাকে বিরক্ত করছে, তাই আমি কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। এত ভুয়া খবর প্রকাশ করা আমার ভাবমূর্তির ক্ষতি করে। উদাহরণস্বরূপ, জেরার্দ রোমেরো বলেছেন যে, গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেতিকোর বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলাম আমি। এটা ভুয়া খবর। এটা সত্যি নয়। বার্সার হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন, অবশ্যই আমি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে চাই। আমি বুঝতে পারছি না তিনি কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন।
লোকেরা এসব দেখে আমার ওপর রেগে যায়। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে অনেক সাংবাদিকের কাছে সত্যি কিছু প্রকাশ করার চেয়ে কিছু একটা ছেপে দেওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারপর উনি বলেছেন, কোচের সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ। এটা মিথ্যা। (ফ্লিকের) সাথে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। আমরা অনেক কথা বলি। (উনি বলেছেন) ক্লাবের সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ। এটাও মিথ্যা। আমি ক্লাবের অনেক লোকের সাথে কথা বলি।”
২৯ বছর বয়সী ডি ইয়ংয়ের স্পষ্ট উচ্চারণ, মিথ্যা কিছু ছড়ানো হলে তিনিও ছেড়ে কথা বলবেন না।
“জেরার্দ রোমেরো অতীতেও আরও মিথ্যা বলেছে। কিন্তু আমি আর ছাড় দেব না, কারণ তাকে বুঝতে হবে যে, তিনি যদি ভুয়া খবর ছড়ান, আমি তার প্রতিবাদ করব।”
ডি ইয়ং বলেন, তিনি বার্সেলোনা হয়ে খেলার জন্য যথেষ্ট ভালো কি না, সে বিষয়ে মানুষ বিচার করলে তার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু ‘ভুয়া খবরগুলো তাকে প্রভাবিত করে।’
“আমি এমন কিছু দেখি, যা আমাকে রাগান্বিত ও বিরক্ত করে।”
হাঁটুর লিগামেন্টের চোটে নতুন মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারবেন না ডি ইয়ং। এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এমন সব খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা তাকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমনও বলা হয়েছে যে, হাঁটুতে প্রথম চোট পাওয়ার পরও খেলা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তিনি ক্লাবের চেয়ে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
“আমি এই সবকিছু মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছিলাম, যাতে আমার সেরে ওঠার দিকে মনোযোগ দিতে পারি। এই চোটের জন্য আমি সত্যিই খুব বিরক্ত। আমি ফুটবল খেলাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। আমার ভাগ্যটা খারাপ ছিল; অনুশীলনের সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে। কেউ একজন আমার ওপর পড়ে যায় এবং আমার হাঁটুতে সামান্য আঘাত লাগে। পরীক্ষায় সামান্য সমস্যা ধরা পড়লেও, ফিজিওরা আমাকে ব্যথা নিয়েই খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। তারা আমাকে আশ্বাস দেন যে, এটা আরও খারাপ হবে না।
“বিশ্বকাপে খেলা একটা স্বপ্ন, তাই আমি খেলা চালিয়ে যাই। আমি বার্সার সাথে যোগাযোগ রাখি, পরে ফিরে এসে আরও কিছু পরীক্ষা করাই, আর তখনই একটি স্ক্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রে করা পরীক্ষার চেয়ে চোটটা আরও গুরুতর।”
ডি ইয়ংয়ের মাঠে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বর্তমানে নেই। সূত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন লিখেছে, তিনি কয়েক সপ্তাহের চেয়ে বরং কয়েক মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
