Published : 28 Jul 2025, 04:30 PM
ফাইনালের আগে ফেভারিট প্রশ্নে পরিষ্কার এগিয়ে ছিল স্পেন। মাঠের লড়াইয়েও শুরুটা তারা দারুণ করে। কিন্তু, এরপর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে পেনাল্টি শুটআউটে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যর্থ হয় তারা। সেখানে জালে বল পাঠাতে পারেননি দলের সেরা ফুটবলার আইতানা বনমাতিও। নিজের এমন ব্যর্থতা এবং স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে গিয়েও এভাবে শিরোপা হাতছাড়া হওয়াটা যেন মানতেই পারছেন না তারকা এই মিডফিল্ডার।
উইমেন’স ইউরোর ফাইনালে রোববার মূল ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর, টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড।
১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৬৫ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্পেন। বিপরীতে, ইংল্যান্ডের আট শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে আর্সেনাল ফরোয়ার্ড মারিওনা কালদেন্তের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। বাকি সময়ে আধিপত্য ধরে রাখলেও দ্বিতীয় গোলের দেখা আর পায়নি তারা। উল্টো ৫৭তম মিনিটে আর্সেনাল ফরোয়ার্ড অ্যালেসিয়া রুশোর গোলে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড।
২০২৩ সালে এই ইংল্যান্ডকে হারিয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। এবার স্বপ্ন ছিল প্রথম ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফিতে চুমু আঁকার। কিন্তু পারলেন না তারা। টাইব্রেকারে স্পেন দলের বনমাতি ছাড়া মারিওনা কালদেন্তে ও সালমা পারাইয়েলো জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হন।
তিরে এসে এভাবে তরি ডোবায় বিশ্বাসই হচ্ছে না বনমাতির। সমর্থকদের কাছে চেয়েছেন ক্ষমা।
“আমি হতবাক হয়ে গেছি। আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে লড়াই করেছি। নিজে পেনাল্টি মিস করায় অবশ্যই আমার ক্ষমা চাইতে হবে এবং ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন জানাতে হবে। তবে আমরা ভালো খেলেছি। আমরা তুলনামূলক ভালো দল ছিলাম, যদিও সেটা যথেষ্ট নয়…জিততে হলে জালে বল পাঠাতে হবে।”
“আমার মতে, ইংল্যান্ড এমন একটা দল যারা ভালো না খেলেও জিততে পারে। কিছু দল আছে যাদের জেতার জন্য খুব বেশি কিছু দরকার নেই।”
আসর শুরুর পাঁচ দিন আগে ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল গত দুবারের ব্যালন দ’র জয়ী বনমাতিকে। তবে শঙ্কা কাটিয়ে, সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরেন তিনি। সেমি-ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ে একমাত্র গোলটিও করেন বার্সেলোনা তারকা।
কেবল তাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বনমাতি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। আর আসরে চার গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন তার সতীর্থ ইসথের গন্সালেস।
কিন্তু শিরোপা জিততে না পারায় এসবে আর মন ভরছে না বনমাতির। এই পরাজয়কে তিনি তুলনা করছেন গত মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে হারের সঙ্গে।
“আমি বিধ্বস্ত, এর (শিরোপা জয়ের) জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমাদের একই অভিজ্ঞতা হয়েছে।”
“এ মুহূর্তে এই হতাশা, এই কষ্ট… খুব নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমাদের সবকিছুই খুব খারাপ কেটেছে, কিন্তু আমার মতে, (টুর্নামেন্টে) আমরাই সবচেয়ে ভালো করেছি, সবচেয়ে ভালো খেলেছি এবং আমাদের দলেই সবচেয়ে বেশি মেধাবী খেলোয়াড় আছে।”