চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 15 Apr 2026, 08:58 PM
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বার্সেলোনা শিবির। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার পর, ম্যাচ অফিসিয়ালদের তীব্র সমালোচনা করলেন ক্লাবটির নতুন মেয়াদে নবনির্বাচিত সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগেই ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয় বার্সেলোনাকে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। ম্যাচটি বার্সেলোনা হারে ২-০ গোলে।
দ্বিতীয় লেগে মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ২৪ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল করে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ সম্ভাবনা জাগায় বার্সেলোনা। তবে একটু পরই ব্যবধান কমায় আতলেতিকো। বাকি সময়ে আর গোল হয়নি। উল্টো ৭৯তম মিনিটে লাল কার্ড দেখেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া।
ম্যাচটি বার্সেলোনা ২-১ গোলে জিতলেও, দু্ই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় সেমি-ফাইনাল পা রাখে আতলেতিকো।
চোটের কারণে দুই লেগেই খেলতে না পারা রাফিনিয়া পরে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা ছিল স্রেফ ডাকাতি।’
পরদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন লাপোর্তাও।
“সেমি-ফাইনালে ওঠার জন্য আতলেতিকোকে অভিনন্দন, কিন্তু গতকাল রেফারি ও ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) উভয়ের সিদ্ধান্ত ছিল খুবই বাজে। তারা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তা অসহনীয়। প্রথম লেগে তারা আমাদের একটি স্পষ্ট পেনাল্টি দেয়নি এবং আমাদের একজন খেলোয়াড়কে (পাউ কুবার্সি) মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিল, যেটায় শুধু হলুদ কার্ড হতে পারত। জুলিয়ানোর (সিমেওনে) বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না, রেফারি প্রথমে সঠিক বাঁশিই বাজিয়েছিল, কিন্তু ভিএআর তাকে সিদ্ধান্ত পাল্টে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য করে, যা আমাদের জন্য ছিল খুবই বেদনাদায়ক।”
“এটা এমন এক ম্যাচ ছিল যেখানে রেফারির সিদ্ধান্তগুলো আমাদের অনেক ভুগিয়েছিল। দ্বিতীয় লেগেও একই ঘটনা ঘটেছে। তারা আমাদের একজন খেলোয়াড়কে (এরিক গার্সিয়া) মাঠ থেকে বের করে দেয়, অথচ (জুল) কুন্দে সহজেই বলটা ধরতে পারত, তাই সেখানে এরিক শেষ ডিফেন্ডার ছিল না। রেফারি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, যা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু ভিএআর তাকে সিদ্ধান্তটি পাল্টে দিতে বাধ্য করে, যা আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত।”
বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোল করা ফেররান তরেস আবার জালে বল পাঠালেও, ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। প্রতিপক্ষের ধাক্কায় দানি ওলমো বক্সে পড়ে যাওয়ার পর বার্সেলোনা পেনাল্টির দাবি জানালেও, রেফারির সাড়া মেলেনি। হেড করার পর আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর বুট মুখে লেগে রক্তাক্ত হন ফের্মিন লোপেস। এসব ঘটনায় রেফারির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন লাপোর্তা।
“ফেররানের গোলটি তো গোলই ছিল। ওলমোর ঘটনা পেনাল্টিই ছিল এবং ফের্মিনের ওপর হওয়া আগ্রাসনকে যেভাবে খুশি বিচার করতে পারেন, কিন্তু এটা অসহনীয়। ওর ঠোঁট ফাটিয়ে দিয়েছিল এবং সেলাই করার সময় ছেলেটা ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল, অথচ সে (আতলেতিকো গোলরক্ষক) কোনো কার্ড পায়নি।”
প্রথম লেগের পরই রেফারিং নিয়ে উয়েফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় বার্সেলোনা। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে খারিজ করে দেয় ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা। এবার উয়েফার ওই সিদ্ধান্তকেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন লাপোর্তা।
“আমরা একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম এবং জবাবে উয়েফা জানিয়েছে যে, সেটা অগ্রহণযোগ্য। এখন আমরা জানতে চাইছি, কেন সেই অভিযোগটি অগ্রহণযোগ্য। আমরা আরও একটি অভিযোগ দায়ের করব, কারণ গতকাল আমাদের সঙ্গে আবার যা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এই সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টতই আমাদের ক্ষতি করেছে।”
যারা দাবি করে, রেফারিরা সবসময় বার্সেলোনার পক্ষ নেয়, তাই রেফারিদের নিয়ে ক্লাবটির অভিযোগ করার কিছু নেই, সেই লোকদেরও একহাত নিলেন লাপোর্তা।
“ওরা নির্লজ্জ। যারা বলে রেফারিরা আমাদের পক্ষপাতিত্ব করে, তারা নির্লজ্জ। যারা এই কথা বলে, তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই ম্যাচটা দেখা উচিত। কেউ তাদের কথা বিশ্বাস করে না।”