এশিয়ান কাপ বাছাই
Published : 31 Mar 2026, 09:39 PM
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার ফাঁকে আচমকা হজম করা গোলটি আর শোধ করতে পারল না বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত হারের তেতো স্বাদ নিয়ে শেষ করল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ড। প্রতিপক্ষের মাঠে ভালো খেলেও হেরে যাওয়াটা তাই মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।
বাছাইয়ে নিজেদের ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচে এক জয়, দুই ড্র ও তিন হার নিয়ে বাছাই শেষ করল দল।
ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজা চৌধুরী, কানাডা প্রবাসী শোমিত সোম, ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জায়ান আহমেদদের নিয়ে এবার বড় স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। বাছাই পেরুনোর স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর শেষটা অন্তত ভালো করার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু সেটাও পূরণ না হওয়ার হতাশা ঝরল কাবরেরার কণ্ঠে।
“বাছাইপর্বে আমাদের গ্রুপে আমার মনে হয় না, আমরা কোনো দলের চেয়ে খারাপ খেলেছি; বরং অনেক প্রতিপক্ষের চেয়েই আমরা সব ম্যাচে ভালো খেলেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছি। আজকের ম্যাচের কথাই যদি বলি, আমি বলছি না যে, সিঙ্গাপুর এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্য নয়, কিন্তু আজকের খেলায় কোনো সংশয় নেই যে আমরা তাদের চেয়ে অনেক উন্নত মানের ফুটবল খেলেছি।”
“আজকের ফলাফল মেনে নেওয়া খুবই কঠিন, কারণ সম্ভবত পুরো গ্রুপ পর্বের মধ্যে এটাই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। দল নিশ্চিতভাবেই জয়, অথবা অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক গর্বিত, আর এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমরা মাঝে মাঝে কীভাবে হারছি, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আর আজকে যেভাবে দল হেরেছে, তাতে আমি তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। পুরো ম্যাচে আমাদের আধিপত্য ছিল। আজকের এই পারফরম্যান্সের জন্য আমি দলকে অভিনন্দন জানাই।”
ম্যাচে পাওয়া সেরা সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশ পারেনি। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ম্যাচের ফল ভিন্ন রকম হতেও পারত। গোল করার সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে হতাশা আড়াল করলেন না কাবরেরা।
“আমাদের ইতিবাচক হতে হবে। পরিবর্তন আসছে। মাঠে খেলোয়াড়দের মান এখন স্পষ্ট; আমরা আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করছি, আমাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বাড়ছে। খেলোয়াড়রা এখন জানে কীভাবে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। অনেক ভালো দিক আছে, তবে সিঙ্গাপুরের মতো দলগুলোর একটি সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা আছে, যে দিকটায় আমাদের এখনও কিছুটা অভাব রয়েছে। দল যদি এই জায়গাটিতে উন্নতি করতে পারে, তবে আগামী কয়েক বছরে আপনারা দেখবেন বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে আরও ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে গেছে।”
সম্ভাব্য সেই এগিয়ে যাওয়ার সময়ে বাংলাদেশের ডাগআউটে কাবরেরাকে দেখা যাবে কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে। কেননা, এই স্প্যানিশ কোচের চুক্তির মেয়াদ ফুরাবে এই এপ্রিলেই। নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রশ্নে কাবরেরাও নিশ্চিত করে বললেন না কিছু। সবকিছু যেন ছেড়ে দিলেন সময়ের হাতে।
“দেখা যাক কী হয়, এখনও এক মাস বাকি আছে। তবে আমার পরামর্শ হলো কাজ চালিয়ে যাওয়া। সত্যি বলতে, কে দায়িত্বে আছে সেটা বড় বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলকে একটি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা। আমি মনে করি, উন্নতিটা দৃশ্যমান। আমার অধীনে যা অভাব ছিল তা হলো সম্ভবত আরও কিছু ইতিবাচক ফলাফল।”
“আমার মনে হয়, ফেডারেশনের উচিত এই একঝাঁক খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা। অনূর্ধ্ব-২০ সাফে আপনারা যেমনটা দেখেছেন, সেই তরুণ খেলোয়াড়দের তুলে এনে দলে কিছুটা পরিবর্তন এনে এগিয়ে যেতে হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা এবং সুযোগ দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে; তাহলে অচিরেই আমরা আজকের মতো ম্যাচগুলো জিততে সক্ষম হব।”