২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৩ বছর পর ব্রাজিল দলে ফিরে ‘প্রথমের স্বাদ’ পাচ্ছেন ফাবিনিয়ো

আবার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন ফাবিনিয়ো।

৩ বছর পর ব্রাজিল দলে ফিরে ‘প্রথমের স্বাদ’ পাচ্ছেন ফাবিনিয়ো
ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফাবিনিয়ো। ছবি: সিবিএফ।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Nov 2025, 06:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:06 PM

কাতার বিশ্বকাপের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন বছর। দীর্ঘ সময় পর আবার জাতীয় দলে ফিরতে পেরে দারুণ রোমাঞ্চিত ফাবিনিয়ো। স্বপ্নের জার্সি পেয়ে প্রথমবার যেমন অনুভূতি হয়েছিল, এবারও ঠিক তেমন ভালোলাগা কাজ করছে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফাবিনিয়োর মনে।

আবার জাতীয় দলে যোগ দিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনতেও শুরু করেছেন ফাবিনিয়ো। নিজেকে মেলে ধরে, দলে জায়গা পাকা করে, খেলতে চান আসছে বিশ্বকাপে।

সেনেগাল ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে এখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফাবিনিয়ো। প্রথম ম্যাচে আগামী শনিবার সেনেগালের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল, আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামে। ক্লাবটির অনুশীলন মাঠেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

সেখানেই ব্যস্ততার ফাঁকে সিবিএফ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাবিনিয়োর কণ্ঠে ফুটে উঠল তার জাতীয় দলে ফিরতে পারার উচ্ছ্বাস।

“প্রায় তিন বছর বাইরে থাকার পর আবার (জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায়) নতুন এক অনুভূতি কাজ করছে। মনে হচ্ছে, যেন প্রথমবার আমি এখানে এসেছি, লকার রুমে নিজের পোশাক দেখে, নিজের ব্যাকপ্যাক খুলে এবং তাতে একনজর দেখে…সেই প্রথমবারের মতো অনুভূতি পাওয়াটা সত্যিই দারুণ।” 

২০১৫ সালের জুনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬২ ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পেয়ে ২৯টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ফাবিনিয়ো, মোট প্রায় দেড় হাজার মিনিটের মতো। এতেই অবশ্য আনচেলত্তির বর্তমান দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একজন হয়ে গেছেন ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।

জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ অভিযানের অভিজ্ঞতা একদমই সুখকর নয় ফাবিনিয়োর ও তার দলের। কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে ব্রাজিল, আর দলের পাঁচ ম্যাচের মাত্র একটিতে খেলার সুযোগ পান তিনি।

পরের বছর ফাবিনিয়ো লিভারপুল ছেড়ে যোগ দেন সৌদি আরবের ক্লাব আল-ইত্তিহাদে। এরপর মাঝের সময়ে আর জাতীয় দলে ডাক পাননি তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবার প্রিয় জার্সি পরে মাঠে নামার হাতছানি তার সামনে।

“জাতীয় দলে এই ডাক আমার কাছে খুবই স্পেশাল এবং এই সুযোগ আমার কাজে লাগাতে হবে। আগে থেকে আমি বলে আসছি যে, (জাতীয় দলে) আবার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি ক্লাবে অনেক পরিশ্রম করি। এখন যেহেতু ডাক পেয়েছি, তাই সেরাটা দেওয়ার দায়িত্ব আমার, প্রতিদিন কাজ করার এবং দেখানোর যে, কেন আমি এখানে।”

“বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তো সবসময়ই আছে, কিন্তু সেটা অর্জন করতে হলে আমাকে ভালো করতে হবে।”

বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে এই দুটি ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ফাবিনিয়ো। কারণ দীর্ঘ বাছাইপর্ব শেষে এই দুই দলের বিপক্ষে ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তারা, যা বিশ্বকাপের আগে তাদের শানিত করতে পারে।

“বাছাইপর্বে ব্রাজিল যেসব দলের বিপক্ষে খেলেছে, এই দুটি দল তাদের থেকে ব্যতিক্রম। তাই এই দুই ম্যাচ ভিন্ন ঘরানার ফুটবলের বিপক্ষে খেলার একটা সুযোগ, এমন দলের বিপক্ষে যারা এরই মধ্যে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে।”

“সেনেগাল আফ্রিকার সেরা দল না হলেও, সেরা দলগুলোর একটি এবং সবসময় আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের জন্য লড়াই করে। দল হিসেবে উন্নতির ধারা বজায় রাখতে এই দুটি ম্যাচ আমাদের জন্য খুব ভালো সুযোগ।”

পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অবশ্য অনেক দিন ধরেই সেরা চেহারায় দেখা যাচ্ছে না। কনমেবল অঞ্চলের বাছাইয়ে ১৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র আটটিতে জিতেছে তারা। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম হয়ে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে, বাছাইয়ের সেরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ১০ পয়েন্ট কম নিয়ে।

বাছাই শেষে গত মাসের এশিয়া সফরও তাদের জন্য ছিল অম্লমধুর। দুই প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে তারা গুঁড়িয়ে দেয় ৫-০ গোলে, কিন্তু পরের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে হেরে বসে ৩-২ গোলে।

পুরনো ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ব্রাজিলের সামনে এবার তাই ধারাবাহিক সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। 

সেনেগালের বিপক্ষে লড়াইয়ের চার দিন পর, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বছরের শেষ ম্যাচ খেলবে সবশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল।