ভারতের ক্লান্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর তৃপ্তি টিটুর

ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় ভুটান ম্যাচে কয়েকজনকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবছেন বাংলাদেশ কোচ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Feb 2024, 04:13 PM
Updated : 4 Feb 2024, 04:13 PM

প্রথমার্ধে বাংলাদেশকে দেখা যায়নি চেনা রূপে। বরং ভারতই ছড়ি ঘোরায় বেশি। বিরতির পর ধীরে ধীরে ভারতের খেলায় পড়ে ক্লান্তির ছাপ। সেই সুযোগে শেষ দিকে তেতে ওঠে বাংলাদেশ, সাগরিকার গোলে তুলে নেয় জয়। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ কোচ সাইফুল বারী টিটুর কণ্ঠে প্রতিপক্ষের ক্লান্তির সুযোগ নিতে পারার সন্তুষ্টি।

কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রোববার সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করেছে মেয়েরা।

প্রতিযোগিতায় ভারতের শুরুটা ছিল দাপুটে; প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১০-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। আসরে শুরুতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশও, তবে নেপালের বিপক্ষে তাদের জয়টি ৩-১ ব্যবধানে। ভারতকে নিয়ে তাই শুরুতে একরকম ভীতিও মেয়েদের মধ্যে ছিল বলে জানালেন টিটু।

“শুরুতে ম্যাচ কঠিন ছিল (আমাদের জন্য)। ওদের ফরোয়ার্ড লাইনে নেহা, শিবানী দেবি, পুজা ও সুলঞ্জনা রাউল খুবই দ্রুতগতির খেলোয়াড়। বিশেষ করে সুলঞ্জনা। আমাদের মাঝমাঠে, বিশেষ করে হোল্ডিং পজিশনে বলগুলো (পাসগুলো) যেতে পারছিল না। যার কারণে নেহাকে কাজে লাগিয়ে বারবার আক্রমণ শাণাচ্ছিল ওরা। ওখান থেকে ম্যাচে ফেরার বিষয়টি মেয়েরাই করেছে। আমার মনে হয়, শুরুর ওই চাপটাই মেয়েদেরকে পাজল করে দিয়েছিল।”

“সব মিলিয়ে মেয়েরা খুশি। ওদের একটু আত্মবিশ্বাসেরও দরকার ছিল, বিশেষ করে ভারত ১০-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে এসেছিল, আজ নেপালের ১-০ গোলে জেতা..সব মিলিয়ে মেয়েদের মানসিকভাবে চাপ ছিল- ভারত আসলেই এত ভালো দল! এই মনোভাব থেকে বের হয়ে আসার দরকার ছিল। সেটা পারায় আত্মবিশ্বাস বাড়বে মেয়েদের।”

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিক থেকেও ভারতকে এগিয়ে রাখলেন টিটু। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রুমা আক্তারকে নামানোর পর মাঝমাঠে ভারসাম্য ফেরে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ।

“ভারত দলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নির্ভর খেলোয়াড় বেশি। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের মাঝমাঠে ওই হোল্ডিং পজিশন ধরার দরকার ছিল। বারবার দ্বিতীয় পাসটা যেন ওরা না পায়। এ কারণেই রুমা আক্তারকে বদলি নামিয়েছিলাম, ও বল পায়ে রাখতে পারে। ও নামার পর কিছুটা ভারসাম্য এসেছিল আমাদের খেলায়।”

যোগ করা সময়ে নিজেদের বক্সের একটু উপর থেকে আচমকাই লম্বা পাস বাড়ান অধিনায়ক আফিদা খন্দকার। কিছুটা অপ্রস্তুত থাকা ভারতের রক্ষণ দেয়ালের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন সাগরিকা। টিটু জানালেন, শেষ দিকে মেয়েদের লম্বা পাসে খেলার নির্দেশনা ছিল তার।

“দ্বিতীয়ার্ধে ওরা আস্তে আস্তে একসময় গিয়ে ক্লান্ত হয়েছে। তখন আমাদের মেয়েরা সেই সুযোগটা নিয়েছে। আমি বলব মুনকি আক্তার চমৎকার একজন খেলোয়াড়। নাম্বার ১০ বা ফলস ৯- যাই বলি…ও আর সাগরিকা মিলে ওদেরকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছে। তখন মেয়েদের বলেছি, একটু ডিরেক্ট পাস খেলতে। আরও ডিপে (প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ডে) পাস ফেলতে। সেটা থেকেই গোল এসেছে। সব মিলিয়ে খুশি…তবে জয়ের উদযাপন করতে নিষেধ করেছি। মেয়েদের বলেছি, এটা তো রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচ, ফাইনাল তো বাকি আছে।”