উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 22 Oct 2024, 10:52 AM
পাকিস্তানের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ে বদলে গেছে সমীকরণ। যেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই সেমি-ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়ে যেত, সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রয়ে পিটার জেমস বাটলারের দলের হিসাব গেছে বদলে। ভাবতে হচ্ছে অনেক কিছু নিয়েই।
বিজিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে এই প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় উইমেন’স সাফ জয়ী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ও ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্না জানালেন নিজেদের চাওয়ার কথা। বললেন, পরিস্থিতি যাই হোক ভারতের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামা উচিত দলের।
নেপালের কাঠমাণ্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে বুধবার ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতার সফলতম দল ভারতের মুখোমুখি হবে শিরোপাধারী বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ ড্র করায় সেমি-ফাইনালে যেতে হলে দুই গোলের চেয়ে বেশি ব্যবধানে হার এড়ালেই চলবে। এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল ভারত।
এমন প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে বাংলাদেশকে মেয়েদের সাফের প্রথম শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসানো কোচ রব্বানী ও ফরোয়ার্ড স্বপ্না পেছন ফিরে তাকালেন। গত সাফে ভারতের বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় জয়ের স্মৃতি আওড়ে দুজনের পরামর্শ পাকিস্তান ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলা উচিত পিটার বাটলারের দলের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে কিছুটা হলেও দুর্ভাবনায় পড়েছে বাংলাদেশ। তবে গত আসরের অভিজ্ঞতা থেকে আশা দেখছেন রব্বানী।
“গতবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ, ফুটবল পন্ডিতরা বলেছিল, ‘এই ম্যাচের কথা চিন্তা না করে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে দাও, কেননা, এই ম্যাচ তুমি হারবেই।’ কিন্তু আমি বলেছিলাম, ‘না, তা হবে না। আমি এই ম্যাচেই খেলব। এই ম্যাচ জিতেই আমি ভুটানের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে খেলব।’ আমি সেটা করে ছেড়েছিলাম।”
“তবে গতবারের আর এবারের দল এক না। তারপরও আমি মনে করি, সবার বিপক্ষে জয়ের সামর্থ্য আমাদের আছে। বাটলার তো অ্যাটাকিং ফুটবল খেলাবে, কিন্তু রক্ষণে লোক নেই, চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ম্যাচেও এটাই করতে দেখেছি। তবে ভারতের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই তার খেলা উচিত।”
সাফ জয়ের পর হঠাৎ করেই অবসরের ঘোষণা দেন স্বপ্না। দুই বছর আগের আসরে চার গোল করা এই ফরোয়ার্ড সুর মেলালেন কোচের সুরে।
“অবশ্যই (ভারতের বিপক্ষে) জয়ের জন্য খেলা উচিত। কখনই ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলা উচিত নয়। গত সাফেও যখন আমাদের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল, তখন অনেকেই ছোটন স্যারকে বলেছিল, যেহেতু এই ম্যাচটা আমরা জিততে পারব না, তাই আমরা যারা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলাম, তাদের যেন বিশ্রাম দেওয়া হয়। অনান্য খেলোয়াড়দের খেলানো হয়। স্যার বলেছিলেন, হারি বা জিতি- আমার যে সেরা একাদশ আমি সেটাই নামাব।”
“পরের ম্যাচের জন্য ওদের রেখে দেব (কাউকে বিশ্রাম দেব) সেটা হবে না। এবারও আমাদের এই মানসিকতাই থাকা উচিত আমাদের। ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে নেমে ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব নয়, আমার অন্তত তাই মনে হয়।”