চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
Published : 30 May 2026, 08:40 AM
অনেক অপেক্ষার পর ঘরে উঠেছে প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি। নতুন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান আর্সেনালের লক্ষ্য এবার আরও বড়- সারাজীবনের এক অপূর্ণতা দূর করার, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বাদ পাওয়ার। স্বপ্নটাকে সত্যি করতে তাদের অবশ্য টপকাতে হবে কঠিন বাধা, রুখতে হবে পিএসজির আক্রমণের ঝড়। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ফরাসি দলটি যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তাতে নিজেদের গোলমুখে বাঁধ দেওয়াটাই হয়তো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ইংলিশ দলটির জন্য।
আর্সেনাল শিবিরে বছরের পর বছর ধরে একটা হতাশার গল্পই ঘুরেফিরে আসতো, নাড়া দিত দীর্ঘদিন প্রিমিয়ার লিগ জিততে না পারার কষ্ট। মিকেল আর্তেতার কোচিংয়ে অবশেষে, টানা তিন মৌসুমে রানার্সআপ হওয়ার গেরো কাটিয়ে, ২২ বছর পর এবার সেই খরা ঘোচাতে পেরেছে দলটি।
পাহাড়সম চাপ সরে যাওয়ায় তাই এখন আরও বড় কিছু চাই আর্সেনালের। মৌসুমের সবচেয়ে বড় দুই ট্রফি জিতে পূরণ করতে চায় ডাবল। একই সঙ্গে ইউরোপের শ্রেষ্টত্বের মুকুট পরে নিজেদেরকে সত্যিকার অর্থে মহাদেশ সেরা ক্লাবগুলোর কাতারে তুলতে চায় তারা।
সেই লক্ষ্যে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে শনিবার ফাইনালে পিএসজির মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। পুসকাস অ্যারেনায় বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১০টায়।
লুইস এনরিকের এই পিএসজির মূল মন্ত্র যেন একটাই, আক্রমণের তোড়ে প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দেওয়া। আর গোলমুখ একবার খুলে গেলে দলটিকে আটকে রাখা সত্যিই ভীষণ কঠিন। বলা যায়, প্রায় অসম্ভব, তা মঞ্চ যত বড়ই হোক না কেন।

এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ গত আসরের ফাইনালে। প্রাথমিক পর্বের ভোগান্তিকে পাশ কাটিয়ে, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যায় দলটি, এবং ফাইনালে হয়ে ওঠে আরও ভয়ঙ্কর; ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরে তারা।
প্যারিসের দলটিতে তারকার কমতি নেই, তবে তারা একক নৈপুন্যনির্ভর ফুটবল খেলে না, বরং দলগত পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষকে ঘিরে ফেলাই তাদের মূল কৌশল। দেম্বেলে-দুয়ে-হাকিমিদের পায়ে বল থাকুক বা না থাকুক, তাদের মুভমেন্টেই ফুটে ওঠে আগ্রাসী মনোভাব। আর বল পায়ে এলেই যে ক্ষিপ্রতায় তারা ছুটে যায়, তাতে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সদা থাকতে হয় তটস্থ।
তবে, কোচ আর্তেতা যেভাবে তার দলকে গড়ে তুলেছেন, কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতিতে মনোবল ধরে রাখতে শিখিয়েছেন, তাতে উত্তর লন্ডনের দলটিরই সামর্থ্য আছে এই বিধ্বংসী পিএসজির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার।
আর এই ফাইনালের আগ পর্যন্ত তো সবচেয়ে ধারাবাহিক দল আর্সেনাল, রয়েছে অপরাজিত। একমাত্র দল হিসেবে প্রাথমিক পর্বে আট ম্যাচের সবগুলোয় জয় পায় তারা। ফাইনালের আগ পর্যন্ত ১৪ ম্যাচের ৯টিতেই জাল অক্ষত রেখে দাভিদ রায়া প্রমাণ করেছেন, ফাইনালেও দলকে স্বপ্নের পথে এগিয়ে নিতে অবদান রাখতে পারবেন।

পোস্টে রায়ার উপস্থিতি মিলিয়ে তাদের রক্ষণ কতটা মজবুত, পরিসংখ্যানেও তা স্পষ্ট।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ২৯টি গোল করেছে আর্সেনাল, হজম করেছে স্রেফ ছয়টি। আর প্রিমিয়ারে লিগে এবার ৭১ গোল করে ২৭টি হজম করেছে তারা।
রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা ও গাব্রিয়েল মাগালিয়াইসের জুটি বেশ পোক্ত, একই সঙ্গে অন্যপাশে কর্নারে গোল করতেও সিদ্ধহস্ত তারা। মাঝমাঠে ডেক্লান রাইস ও অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোর পরীক্ষিত সেনানী এবং আগ্রাসী প্রতিপক্ষের সুর কেটে দিতে এই দুজনকে জ্বলে উঠতেই হবে।
দলটির আক্রমণভাগেও আছে ধারাল সব অস্ত্র। চোট কাটিয়ে আগেই মাঠে ফেরা বুকায়ো সাকা লিগের শেষ দিকে ছন্দে ফেরার আভাসও দিয়েছেন। গত গ্রীষ্মে আর্সেনালে যোগ দিয়ে সুইডিশ স্ট্রাইকার ভিক্তর ইয়োকেরেশ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে করেছেন পাঁচটি গোল।
খেলার ধরন যেমনই হোক, সৌন্দর্য থাকুক বা না থাকুক, ফল পেতে যে এই দল দারুণ কার্যকর, তা প্রমাণিত। কদিন আগে পিএসজি কোচ এনরিকে যেমন বলেন, “বল যখন পায়ে থাকে না, তখন তারা বিশ্বের সেরা দল, এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর বল পায়ে থাকলে তো তারা প্রচুর গোল করতে সক্ষম।”
প্রতিপক্ষের শক্তিকে পিএসজি কোচ সম্মান দেখালেও, মাঠে তার দলও যে যথেষ্ট প্রভাববিস্তারী, তার প্রমাণ তো এবার প্রতিটি প্রতিযোগিতাতেই মিলেছে। জানুয়ারিতে ফরাসি সুপার কাজ জয়ীরা ধরে রেখেছে লিগ আঁর শিরোপাও।
এবার তাদের সামনে ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখার পালা।
লক্ষ্য পূরণে তারা যে খুব ভালোভাবে প্রস্তুত, এর প্রমাণও আছে পরিসংখ্যানে। লিগ আঁ জয়ের পথে দলটি ৩৪ ম্যাচেই গোল করেছে ৭৪টি, হজম করেছে ২৯টি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার-ফাইনালে প্রিমিয়ার লিগের দুই ক্লাব চেলসি ও লিভারপুলকে পাত্তাই দেয়নি তারা। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে গোল উৎসবের প্রথম লেগে জয়ের পর, ফিরতি লেগে দৃঢ়তার সঙ্গে ওই ব্যবধান ধরে রাখে তারা।
স্বপ্নের ঠিকানায় পা রাখতে তাই এনরিকের দলের কেবল উড়ন্ত পারফরম্যান্সের ধারা ধরে রাখতে হবে। বিপরীতে, তাদের আগ্রাসী ফুটবলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই শেষ হাসি হাসতে পারবে আর্সেনাল।