Published : 01 Apr 2026, 03:36 PM
টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বার বাছাইয়েই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হওয়ার পর, আবেগ ছুঁয়ে গেল ইতালি কোচ জেন্নারো গাত্তুসোকে। বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক এই মিডফিল্ডার চোখে জল নিয়ে দলের ব্যর্থতায় চাইলেন ক্ষমা। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হেরে আরেকটি বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে যাওয়ার পর, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনো কথা বলতে চাইলেন না তিনি।
বাছাইয়ে প্লে-অফের ফাইনালে মঙ্গলবার রাতে বসনিয়ার বিপক্ষে প্রথমে অবশ্য এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তবে বিরতির আগে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। তাদের ওপর চাপ তৈরি করে বসনিয়া এবং সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেয় দলটি।
পেনাল্টি শুট আউটে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় গাত্তুসোর দল।
গত দুই আসরেও বাছাইয়ের প্লে অফে হেরেছিল ইতালি। আরও একবার এভাবে পরাজয় ইতালির ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই ভীষণ বড় ধাক্কা। আরএআইয়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেখানে সবচেয়ে বেশি আঘাত পাওয়াদের একজন গাত্তুসো দাঁড়ালেন ফুটবলারদের পাশে।
“এমন হার আজ ছেলেদের প্রাপ্য ছিল না। আমরা ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছিলাম। তিনটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম আর তারা আমাদের তেমন একটা ভাবাতে পারেনি। আমি দুঃখিত, এটাই ফুটবল এবং আমি ছেলেদের নিয়ে গর্বিত।”
“এটা বেদনাদায়ক, কারণ ইতালির সবার জন্য এবং নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটার (বিশ্বকাপে ওঠা) খুব প্রয়োজন ছিল। এই আঘাত হজম করা কঠিন।”
বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচের করা একটি বাজে ফাউল নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল ইতালি। ওই ঘটনায় স্রেফ হলুদ কার্ড দেখেন স্বাগতিক সেন্টার ব্যাক। ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে যদিও কথা বলতে চাইলেন না গাত্তুসো।
“কোনো কিছু নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। তবে আজ এই ফল অন্যায্য। অনেক বছর ধরে আমি ফুটবলের দুনিয়ায় আছি, কখনও আমি আনন্দিত হয়েছি, আর আজ পরাজিত হয়েছি। এটা হজম করা কঠিন। তারা যেভাবে নিজেদের নিংড়ে দিয়েছে, আমাকে অবাক করেছে।”
“বাছাই উতরাতে না পারায় আমি ক্ষমা চাইছি। তবে ছেলেরা আজ আমাকে মুগ্ধ করেছে।”
বাছাই পর্বের শুরুর দিকে নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর ছাঁটাই হওয়া লুসিয়ানো স্পালেত্তির জায়গায় ইতালির কোচ হয়ে আসেন গাত্তুসো। এখনই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চান না তিনি।
“আজ আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”