জার্মান ফুটবল
Published : 26 Apr 2026, 06:53 PM
প্রথমার্ধেই তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, ঘুরে দাঁড়ানো সহজ কাজ নয়। মাইন্সের বিপক্ষে সেই কঠিন পথই পাড়ি দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। কোণঠাসা অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে যে ইস্পাত কঠিন মানসিকতা ও প্রবল আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে দল, তাতে মুগ্ধ ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন।
প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার খেলতে নেমে হারের শঙ্কায় পড়া বায়ার্ন শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে জিতেছে। যেখানে ম্যাচ জেতানো গোলটি করেছেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা স্ট্রাইকার কেইন।
প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার নজির বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে এনিয়ে তৃতীয়বার দেখা গেল। জার্মানির শীর্ষ প্রতিযোগিতাটি এর আগে সবশেষ এমন কিছুর সাক্ষী হয়েছিল ১৯৮০ সালে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়েই, ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম তিন কিংবা এর চেয়ে বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয়ের স্বাদ পেল বায়ার্ন।
আর চলতি মৌসুমে লিগে অষ্টমবারের মতো পিছিয়ে পড়ার পর জয় পেল বায়ার্ন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বায়ার লেভারকুজেনের গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রত্যাবর্তনের রেকর্ডে ভাগ বসাল তারা।
বায়ার্ন এদিন সবশেষ ম্যাচের শুরুর একাদশে আটটি পরিবর্তন এনে মাঠে নামে। এর প্রভাব পড়ে তাদের পারফরম্যান্সেও; বিরতির আগে দলটির একটি শটও লক্ষ্যে ছিল না। তিন গোল হজম করার পর, জার্মান চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়ার্ধের শুরতেই হ্যারি কেইন ও মাইকেল ওলিসেকে বদলি নামায়।
তাদের মাঠে নামতেই যেন ছন্দ খুঁজে পায় বায়ার্ন। একের পর এক গোলও পেতে শুরু করে তারা। নিকোলাস জ্যাকসন, ওলিসের পর সমতায় টানা গোলটি করেন জামাল মুসিয়ালা। নির্ধারিত সময়ের সাত মিনিট আগে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন কেইন। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার এটি ৩৩তম গোল।
ম্যাচ শেষে দলকে স্তুতির জোয়ারে ভাসান কেইন। এমন অসাধারণ জয়ের জন্য সবাইকে কৃতিত্ব দেন তিনি।
“বিরতির সময় আলোচনা করছিলাম যে, আমাদের আরও শক্তি ও তীব্রতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সেটা মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিট থেকেই দেখা গেছে। অবশ্যই, ভালো মানও দেখাতে হবে। আর গোলগুলোর মাধ্যমে আমরা সেটা করতে পেরেছি।”
“কৃতিত্ব সবার, প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়ানো আমাদের দৃঢ় মানসিকতাকেই ফুটিয়ে তোলে।”
আগের রাউন্ডে জিতেই এবারের বুন্ডেসলিগা জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে বায়ার্ন। ৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও চার ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট এখন ৮২।