স্প্যানিশ ফুটবল
Published : 28 Dec 2025, 08:21 PM
কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে বায়ার্ন লেভারকুজেনে দুর্দান্ত সাফল্য পেলেও, রেয়াল মাদ্রিদে ভুগছেন শাবি আলোন্সো। দারুণ পথচলার মাঝে হঠাৎ দল পথ হারিয়ে ফেলার পর, তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তবে তার কোচিং সামর্থ্যে বিশ্বাস আছে টনি ক্রুসের। তার মতে, যথেষ্ট সময় পেলে রেয়াল মাদ্রিদকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারবেন আলোন্সো।
খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানার পর, কোচিংয়ে নাম লেখান আলোন্সো। ২০২২ সালে দায়িত্ব নেন বায়ার লেভারকুজেনের এবং খুব দ্রুত ক্লাবটিকে অবিশ্বাস্য এক সাফল্য এনে দেন তিনি। তার হাত ধরে ২০২৩-২৪ মৌসুমে বুন্ডেসলিগায় কোনো ম্যাচ না হেরে চ্যাম্পিয়ন হয় লেভারকুজেন, ক্লাবের ইতিহাসে সেটাই তাদের প্রথম লিগ শিরোপা।
ওই সাড়া জাগানো সাফল্যের পর থেকেই তার রেয়ালের কোচ হওয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় এবং গুঞ্জন সত্যি করে গত জুনে তিনি সাবেক ক্লাবের দায়িত্ব নেন।
ওই মাসেই শুরু ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপে ভালো-খারাপ পারফরম্যান্সে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারে রেয়াল। এরপর নতুন মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুরুটা দারুণ করে তার দল। ঘরোয়া লিগে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থান থেকে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে ছিল তারা। কিন্তু পরের কয়েক ম্যাচে পথ হারিয়ে বার্সেলোনার কাছে শীর্ষস্থান হারায় দলটি।
তাতেই তার দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে সমালোচনার বিষাক্ত তীর। ক্লাব সমর্থকরাও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। দিনে দিনে তার অবস্থান নড়বড়ে হতে থাকে, এমনকি তার ছাঁটাই হওয়ার গুঞ্জনও ডালপালা মেলতে শুরু করে।
তার প্রতি রেয়াল গ্রেট ক্রুসের আস্থা আগের মতোই আছে। ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রোমারিওর ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে আলাপকালে সাবেক জার্মান মিডফিল্ডার দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, সময় পেলেই রেয়ালকে কক্ষপথে ফেরাতে পারবেন আলোন্সো।
“কোচ হিসেবে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো (রেয়াল) মাদ্রিদকে কোচিং করানো, এটা সহজ কাজ নয়। এখানে আপনি কেবল ম্যাচ জিতলে, কেউ আসলে তেমন খুশি হয় না, খুব কম দলের ক্ষেত্রেই বিষয়টা এমন। আর ড্র করলে বা হারলে… এই ক্লাব আসলে হারতে অভ্যস্ত নয়। অল্প সময়েই তারা আপনার সমালোচনা করবে।”
“এখানে কোচের সময়টা খুব কম। এক বা দুই বছরে দলকে গুছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আপনি ভাবতে পারবেন না, এখানে তাৎক্ষণিক ফল দরকার। আমি বিশ্বাস করি, শাবি খুব ভালো কোচ এবং মাদ্রিদকে কোচিং করাতে যা দরকার, সেইসব গুণ তার আছে। মাদ্রিদ অর্থ কী, সেটা তিনি আগে থেকেই জানেন। তিনি আগে থেকেই জানতেন যে, এখানে এমন কিছু হতে পারে। তাকে আসলে সময় দিতে হবে এবং শান্ত থাকতে হবে; কিন্তু মাদ্রিদে এটা আসলে কঠিন।”
কিছুদিন আগ পর্যন্ত রেয়াল যেন পুরোপুরি কক্ষচ্যুত হয়ে পড়েছিল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছিল তারা, ঘরের মাঠে হেরেছিল টানা দুই ম্যাচে।
তবে বড়দিনের ছুটির আগে লা লিগা ও কোপা দেল রে মিলিয়ে টানা তিন জয়ে পথে ফেরার আভাস দিয়েছে আলোন্সোর দল। নতুন বছরে জয়ের ধারায় এগিয়ে যাওয়াই এখন তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
১৮ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে, বার্সেলোনার চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে, লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে আছে রেয়াল। পরের ম্যাচ তারা খেলবে আগামী রোববার, লা লিগায় রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে।