নেপালের বিপক্ষে সেই দুঃখ ভুলতে মরিয়া মাসুরা

গত আসরে বিরাটনগরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শুরুতে আত্মঘাতী গোল করে বসেছিলেন মাসুরা পারভীন।

কাঠমান্ডু থেকে মোহাম্মদ জুবায়েরবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 01:36 PM
Updated : 17 Sept 2022, 01:36 PM

সেদিন তার কথা ছিল রক্ষণের দেওয়াল হওয়ার, কিন্তু ষষ্ঠ মিনিটে মাসুরা পারভীনই হলেন আত্মঘাতী। পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নেপালের কাছে হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে উঠল ২০১৯ মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে। সেখানে ভারতের কাছে হেরে ছিটকে গেল দল। দুঃসহ সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই মাসুরার মুখটা হয়ে গেল মলিন। কিন্তু এরপরই শক্ত চোয়ালে ২০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জানিয়ে দিলেন-নেপালের বিপক্ষে এবারের ফাইনাল তার কাছে বিরাটনগরের সেই দুঃখ ভোলার মিশন।

সাফের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে আগামী সোমবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে উঠেছে নেপাল। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার।

বিরাটনগরের সেই ম্যাচে অনিতা বাসনেতের লম্বা ফিরতি শট হেডে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন মাসুরা। ফাইনালে আবারও অনিতার মুখোমুখি হবেন তিনি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভুটানকে ৪-০ ব্যবধানে হারানো ম্যাচে জোড়া গোল করেন অনিতা।

গত সাফের মতো এবারও নেপাল দলের আক্রমণভাগে আছেন সাবিত্রা ভান্ডারি। ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার কারণে নেপালের এই তারকা স্ট্রাইকার খেলতে পারেননি ভারতের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে। ওই ম্যাচে ছিলেন বেঞ্চে। ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা সেমি-ফাইনালে সাবিত্রার অভাব ঘুচিয়েছিলেন রাশ্মিকা ঘিসিং।

ফাইনালে মাসুরাদের মুখোমুখি হবে প্রীতি রায়ও, যিনি গত বছর খেলা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের জালের নাগাল পেয়েছিলেন। দুই প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-১ ব্যবধানে, দ্বিতীয়টি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র। সেই দুই দুই ম্যাচ তো বটেই, চলতি সাফেও রক্ষণে মাসুরার পারফরম্যান্স নজরকাড়া। আঁখি খাতুন, শিউলি আজিমদের নিয়ে গত চার ম্যাচে গোলমুখ অক্ষত রেখেছেন ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি দৈর্ঘের এই ডিফেন্ডার।

কিন্তু বিরাটনগরের সেই দুঃখ এখনও তাড়া করে ফিরে মাসুরাকে। আত্মঘাতী গোলের দায় নিজের কাঁধে বেশি পড়েছিল বলে কষ্টটা তার আরও বেশি। সেই ম্যাচের স্মৃতি আওড়ে সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানালেন দুঃখ ভুলে এবার হাসতে চান বিজয়ের হাসি।

“ওই ম্যাচে আমি ছিলাম ছোট বক্সেরও বাইরে, গোলকিপার (রুপনা চাকমা) আর আমার মধ্যে বোঝাপড়ায় সমস্যা হয়েছিল। ও যদি ক্রসের সময় এগিয়ে আসত, তাহলে ওই আত্মঘাতী গোলটা হতো না। কিন্তু আমার মাথা থেকেই যেহেতু গোলটা হয়েছিল, সবাই আমাকেই দোষ দিয়েছে। এবার সেই দুঃখ ভোলার লক্ষ্য তো অবশ্যই থাকবে।”

ওই ম্যাচে দারুণ স্মৃতিও আছে মাসুরার। ৬৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠা সাবিত্রার শট রুপনাকে ফাঁকি দেওয়ার পর গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেছিলেন তিনি। এবার সাবিত্রা, অনিতা, প্রীতি রায়দের আক্রমণ রুখতে আশাবাদী মাসুরা। বিরাটনগরের দুঃস্মৃতির পুনরাবৃত্তি কাঠমান্ডুতে কোনোভাবেই চান না তিনি।

“এবার জয়ের তাড়না তো বেশি থাকবেই। আমাদের টিম মিটিংয়ের সময়ও আমি বলেছি, আমাদের ডিফেন্স এবং গোলকিপার গত চারটা ম্যাচে গোল হজম করেনি। ফাইনালেও আমরা কোনো গোল না খাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।”

নেপালকে অবশ্য মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না মাসুরা। তার চাওয়া শুধু গত চারটি ম্যাচের মতো ফাইনালেও পোস্ট পরম নির্ভরতায় আগলে রাখা। এই লক্ষ্য জানাতে গিয়ে কৌতুকপূর্ণ হাসিতে টানলেন বিরাটনগরের প্রসঙ্গও।

“নেপালও এমনি এমনি ফাইনালে ওঠেনি। ওরাও আমাদের মতো ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। ওরাও চেষ্টা করবে গোল করার, কিন্তু আমরা ডিফেন্স থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে গোল না খাওয়ার; গত ম্যাচগুলোর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।”

“নেপালের ১৪ নাম্বার (প্রীতি রায়), খুব ভালো…তবে আমরা প্রস্তুত। প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ডিফেন্স প্রস্তুত থাকতে হবে। আশা করি, এবার অন্তত বিরাটনগরের ওই ঘটনা হবে না (হাসি)।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক