উইমেন’স এশিয়ান কাপ
Published : 06 Mar 2026, 11:33 AM
অনুমিতভাবেই গ্রুপের দুই শক্তিশালী দল চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হার মেনে নিচ্ছেন পিটার জেমস বাটলার। তবে প্রতিযোগিতার রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে যে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলেছিল দল, তুলনায় তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ম্যাচে কিছুটা মলিন। এ ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো আক্রমণই শাণাতে পারেনি। এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই একটু যেন উষ্মা ঝরল বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠে। তবে বাটলারও মেনে নিলেন, উত্তর কোরিয়া, চীন বা অস্ট্রেলিয়ার মানের বিরুদ্ধে খেলার মতো যথেষ্ট ভালো ছিল না তার দল।
সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি খায় তারা। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য এই হারে ‘লজ্জার কিছু’ না দেখার কথাই বললেন বাটলার।
“আজ আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি। সম্ভবত এশীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা, যদি সেরা নাও হয়। আমরা সত্যিকারের ফুটবলের শিক্ষা পেয়েছি। টেকনিক ও টেকনিক্যাল সক্ষমতার দিক থেকে উত্তর কোরিয়া আজ আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে ছিল। আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি এবং ৫-০, ৬-০ বা ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।”
“আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না, কারণ, আমরা সেই স্তরে নেই এবং আমাদের নিজেদের কাছে সৎ হতে হবে। আমি মেয়েদের প্রচেষ্টায় এবং তারা যা করেছে তার জন্য গর্বিত। তারা একঝাঁক চমৎকার মেয়ে, কিন্তু আপনি যদি উত্তর কোরিয়ার প্রোফাইল দেখেন—তাদের সামর্থ্য, কৌশল এবং শারীরিক উপস্থিতি—আমরা তাদের আটকাতে পারছিলাম না। এটি একটি সম্পূর্ণ অসম লড়াই ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয়েছে আমাদের কিছু মেয়ে রোদে নুয়ে পড়েছিল এবং আমরা আসলে নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি। কিন্তু এমন একটি সত্যিই ভালো দলের কাছে হার লজ্জার কিছু নয়।”
পাঁচবার পরাস্ত হলেও ম্যাচ জুড়ে দারুণ কিছু সেভ করেছেন মিলি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই গোলকিপারের প্রশংসা করলেন বাটলার।
“মিলি দারুণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং সে একজন সৈনিক। তার জেদ ও উদ্দীপনার প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। তার সাথে কাজ করা দারুণ, সে এই সুযোগটি পাওয়ার যোগ্য এবং মেয়েটির জন্য আমার কেবল প্রশংসাই আছে। মাঝে মাঝে তাকে অনেক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে, তবে হ্যাঁ, এশিয়ান কাপের মতো এই স্তরে আসার পর আমাদের গোলকিপিং বিভাগটি একটি দুর্বল জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু মিলির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তাকে কেবল কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং মাটিতে পা রেখে চলতে হবে, খুব বেশি রোমাঞ্চিত হওয়া যাবে না।”
চীনের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝেমধ্যে আক্রমণে ওঠার সাহস দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ঋতুপর্ণা চাকমা গোল করার দারুণ সুযোগও তৈরি করেন, কিন্তু পারেননি। উত্তর কোরিয়া ম্যাচে অবশ্য উল্লেখ করার মতো কোনো আক্রমণই শাণাতে পারেননি তহুরা খাতুন-ঋতুপর্ণারা। এ নিয়ে ওঠা প্রশ্নে শুরুতে একটু রাগান্বিত হলেও পরে বাটলার মেনে নিলেন সেরাটা মেলে ধরতে পারেনি দল।
“(দুই মিনিটের মধ্যে গোল খাওয়া) এসবের অনেক কিছুই মনোযোগের অভাব থেকে আসে এবং খেলোয়াড়রা মনোযোগ হারায়। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে, উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়রা অনেক উঁচু স্তরে খেলে। তারা এমন মানের খেলোয়াড়, যাদের খেলা দেখার জন্য আমি টাকা খরচ করব। তারা একটি শীর্ষ মানের দল এবং আপনি এটি থেকে দূরে সরতে পারেন না বা অজুহাত দিতে পারেন না। আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি যারা আমার মতে এই টুর্নামেন্ট জেতার ক্ষমতা রাখে। তারা কেবল ভালো ফুটবলারই নয়, তারা অবিশ্বাস্য অ্যাথলেট। অস্ট্রেলিয়া এবং চীনেরও অসাধারণ অ্যাথলেট আছে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে; আমরা সেই স্তরে নেই এবং আমরা ভুল করবই, তবে এই যাত্রাপথে আমরা শিখব।”
“আজ আমরা কেবল আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী একটি দলের সাথে খেলেছি, যারা অন্য গ্রহের। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আজ অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। কিন্তু আমি এই গ্রুপের অংশ হতে লজ্জিত বা অপমানিত বোধ করি না; কারণ, তারা অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া বা জাপানকেও হারিয়ে দিতে পারে। আজ আমরা কেবল পিছিয়ে ছিলাম, উত্তর কোরিয়া, চীন বা অস্ট্রেলিয়ার মানের বিরুদ্ধে খেলার মতো যথেষ্ট ভালো আমরা ছিলাম না।”
আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচটি হবে পার্থে। শনিবার পার্থের উদ্দেশে রওনা দেবে দল। চীন ও উত্তর কোরিয়া ম্যাচের শিক্ষা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চান বাটলার।
“আমাদের প্রত্যাশার ব্যাপারে বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় বলেছি যে, এখানে পৌঁছানোই ছিল আমাদের বিশ্বকাপ। এই মানের দলগুলোকে হারানোর কোনো প্রত্যাশা আমার নেই। আমাদের যাত্রা কি এখন শুরু হচ্ছে? হয়তো এটি একটি জেগে ওঠার ডাক হতে পারে। আমি মনে করি, যাত্রা অনেক আগেই শুরু হয়েছে কিন্তু দল তৈরির ক্ষেত্রে আমরা সেই স্তরে নেই। তাদের অ্যাথলেটিক প্রোফাইল এবং আমাদের পার্থক্য দিন আর রাতের মতো।”
“মেয়েরা এখন আইস বাথ নেবে, কাল আমরা পার্থে যাব এবং নিজেদের প্রস্তুত করব। আমি জানি, আমি কোন কৌশলে খেলাব। আমি চেয়েছিলাম বড় কোনো ইনজুরি ছাড়াই এ ম্যাচটি শেষ করতে। এটি মেয়েদের জন্য একটি দুর্দান্ত শেখার সুযোগ। আপনারা যা ভুলে যান, তা হলো এই দলটির গড় বয়স সাড়ে ১৯ বছর, আর প্রতিপক্ষের গড় বয়স ২৩-২৪ বছর। তাই আমরা একটি ভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছি। আমরা আবার লড়াই করব হাসিমুখে এবং আমাদের সেরাটা দেব। যদি সেটা যথেষ্ট হয়, তবে ভালো, আর না হলে জীবন তার গতিতে চলবে।”