১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রেফারিকে নিয়ে টটেনহ্যাম কোচের অসংখ‍্য প্রশ্ন

লিভারপুলের বিপক্ষে ম‍্যাচে রেফারি জন ব্রুকসের অনেক সিদ্ধান্তই পছন্দ হয়নি টটেনহ‍্যাম হটস্পার কোচ টমাস ফ্র‍্যাঙ্কের।

রেফারিকে নিয়ে টটেনহ্যাম কোচের অসংখ‍্য প্রশ্ন
টটেনহ্যাম হটস্পার কোচ টমাস ফ্র্যাঙ্ক। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2025, 07:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

ঘরের মাঠে লিভারপুলের বিপক্ষে ঘটনাবহুল ম‍্যাচে রেফারির অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টটেনহ‍্যাম হটস্পার কোচ টমাস ফ্র‍্যাঙ্ক। 

ঘরের মাঠে শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছে টটেনহ‍্যাম। স্বাগতিকরা ম‍্যাচ শেষ করে নয়জনকে নিয়ে। 

৩৩তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় টটেনহ্যাম। প্রতিপক্ষের স্বদেশী ডিফেন্ডার ফন ডাইককে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন ডাচ ফরোয়ার্ড সিমন্স। রেফারি জন ব্রুকস প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, মনিটরে রিপ্লে দেখে লাল কার্ড দেখান।

৬৬তম মিনিটে বক্সে লাফিয়ে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উগো একিটিকে। ওই গোলের সময় ক্রিস্তিয়ানো রোমেরো ফাউলের অভিযোগ জানাতে গিয়ে দেখেন হলুদ কার্ড। ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লিভারপুলের ইব্রাহিমা কোনাতেকে ফাউল করার পর মেজাজ হারিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন টটেনহ‍্যাম অধিনায়ক। ৯ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা।

এই ম্যাচের লাল কার্ডে ক্রিস্টাল প্যালেস, ব্রেন্টফোর্ড ও সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে টটেনহ্যামের ম্যাচগুলোতে সিমন্সকে না পাওয়ার শঙ্কা প্রবল। সে কারণে ফ্র‍্যাঙ্কের ক্ষোভ আরও বেশি।

“প্রথম যে লাল কার্ড আমরা দেখেছি, সেটা আমি আগেও দিতে দেখেছি। আমি আগেও বলেছি, ব্রেন্টফোর্ডে থাকার সময়ও তো অবশ‍্যই কয়েকবার বলেছি, অন‍্যদেরটাও আমি দেখেছি এবং এটাকে লাল কার্ড হিসেবে আমার মনে হয়নি।”

“… আমার কাছে এটা বেপরোয়া ট্যাকল নয়। সে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেনি। সে ফন ডাইককে তাড়া করছিল, চাপ তৈরি করতে চাইছিল। এরপর সে দিক বদলায় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার পা ফন ডাইকের অ্যাকিলিসে লেগে যায়।”

এমন ফাউলের জন‍্য সম্ভাব‍্য তিন ম‍্যাচের নিষেধাজ্ঞা মানতেই পারছেন না ফ্র‍্যাঙ্ক, “বেপরোয়া নয় এমন ট‍্যাকলের জন‍্য সে কীভাবে তিন ম‍্যাচের জন‍্য নিষিদ্ধ হতে পারে। এটা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত এবং সম্ভবত আমরা এর বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারব না।”

রোমেরোকে লিভারপুলের একিটিকে ধাক্কা দেওয়ার পরও সফরকারীদের দ্বিতীয় গোল বাতিল না করায় রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন টটেনহ্যাম কোচ।

“সিমন্সের লাল কার্ডের পর আমরা দারুণভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই। এরপর আমার মনে হয়, দ্বিতীয় গোলটি রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয়, পিঠে দুই হাত স্পষ্ট ছিল। আমি বুঝতে পারছি না, সে কীভাবে এটা করতে পারে।” 

“মাঠে আমরা এটা হাজারবার দেখেছি যে, কেউ লাফিয়ে ওঠে, গোল কিক হয়, সেন্টার-ব্যাকের পিঠে দুই হাত, ফাউল। কিন্তু দৃশ‍্যত পেনাল্টি বক্সের ভেতরে হলে ফাউল নয়। আমার মতে, এটা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। সেটা ভিএআরের দিক থেকেও। তবু আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি।”

শেষ দিকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করার সময় রোমেরো নিয়ন্ত্রণ হারালেও টটেনহ‍্যাম অধিনায়কের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন কোচ।

“যেকোনো খেলোয়াড়েরই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, শান্ত থাকা দরকার। শুধু অধিনায়ক বলেই নয়। আমরা এমন একজন ভীষণ আবেগী খেলোয়াড়েরের কথা বলছি, যে বহু বছর ধরে এই ক্লাবের জন্য ভালো করছে।”