স্প্যানিশ ফুটবল
Published : 13 Jan 2026, 10:19 PM
স্প্যানিশ ফুটবলে বহুল আলোচিত বিষয় নেগ্রেইরার মামলা। আদালতে চলমান মামলাটিকে সব কিছুতে টেনে আনছে রেয়াল মাদ্রিদ। বিষয়টি একদমই ভালো লাগছে না লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের। তার মতে, সুপার লিগ ছেড়ে আসায় বার্সেলোনাকে চাপে রাখতেই এমনটা করছে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
বড়দিনের আগে রেয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস বলেন, নেগ্রেইরার ঘটনা ‘ফুটবলের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি।’ এর জবাবে বার্সেলোনার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা অভিযোগ করেন “মিথ্যা ছড়াচ্ছে” তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
আদালতে বিচারাধীন নেগ্রেইরার মামলাটি নিয়ে পেরেসের এমন মন্তব্য মোটেও ভালোভাবে নেননি তেবাস। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে রেয়ালকে ধুয়ে দেন তিনি।
“এখন সে (পেরেস) নেগ্রেইরার মামলা নিয়ে কথা বলছে, যেটি এখন আদালতে। আর এটা আদালতে রেয়াল মাদ্রিদের কারণে নয়, বরং লা লিগা ও পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিসের জন্য। আমরাই প্রথমে রিপোর্ট করেছিলাম।”
১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোসে মারিয়া এনরিকেস নেগ্রেইরা। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তার কোম্পানি ‘ডিএএসএনআইএল নাইন্টি ফাইভ’-কে বার্সেলোনা অর্থ প্রদান করে। যা সামনে আসার পর স্প্যানিশ ফুটবলে বইতে শুরু করে ঝড়।
বার্সেলোনার বিরুদ্ধে রেফারিদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। শুধু তাই নয়, নেগ্রেইরার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়। যদিও আত্মপক্ষ সমর্থন করে নেগ্রেইরা বরাবরই বলেছেন, দায়িত্বে থাকাকালীন বার্সেলোনাকে কোনো সুবিধা তিনি দেননি। পরামর্শমূলক কাজের জন্য তাকে এই অর্থ প্রদান করেছিল ক্লাবটি।
ম্যাচের সময় রেফারির সঙ্গে খেলোয়াড়দের কেমন আচরণ করা উচিত, এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার বিষয় ছিল সেখানে। এ ছাড়া ম্যাচের রেফারি কে থাকবেন, তার ওপর নির্ভর করে তারা কী করতে পারবে বা কী করতে পারবে না, সে বিষয়েও তিনি পরামর্শ দিতেন।
বার্সেলোনার পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হয়েছিল নেগ্রেইরাকে অর্থ দেওয়ার কথা। তবে তারা বলেছিল, এ ধরনের পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি পেশাদার ক্লাবগুলোর জন্য ‘স্বাভাবিক’ ব্যাপার।
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারিতে সম্প্রতি বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে কোটি ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে রেয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটি অভিযোগ করে, নেগ্রেইরার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন শুধু পরামর্শের জন্য করেনি বার্সেলোনা, বরং রেফারিদের প্রভাবিত করে সুবিধা পাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ ছিল।
রেফারিং নিয়ে অভিযোগ করা অবশ্য রেয়ালের জন্য নতুন কিছু নয়। এবার সেসবে নেগ্রেইরাকে টেনে আনছে তারা। যা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না তেবাসের।
“তারা একটি জনসমাগমে বলেছে, গত রোববার তাদেরকে পেনাল্টি দেওয়া হয়নি নেগ্রেইরার কারণে, এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য। তারা স্পষ্টই এই খেলার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।”
“রেফারিদের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি আদালতেই থাকা উচিত, এবং এর জন্য যে পরিণতি হবে সবই মেনে নিতে হবে। যদি কারো রেফারিদের নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে, সেটা শুধু দুই বড় ক্লাবের নয়, আর যদি তারা ফিফার কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেয়, আমরাও আমাদেরটা দেব।”
তেবাসের মতে, রেফারিরা ‘কখনোই’ দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না।
“রেফারিরা দুর্নীতিগ্রস্ত নন। তারা ভুল করেন এবং তাদের মান আরও ভালো করা যেতে পারে—কিন্তু তারা দুর্নীতিগ্রস্ত নন। নেগ্রেইরা স্প্যানিশ ফুটবলের জন্য খুবই ক্ষতিকর ছিল। তবে নেগ্রেইরা আর এখানে নেই; তিনি আর রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটিতেও নেই।”
“রেফারিংয়ের মান কি ভালো করা প্রয়োজন? অবশ্যই। আরও বলি, এ বিষয়টি সমাধানের জন্য আরএফইএফ একটি কমিশন গঠন করেছিল, রেয়াল মাদ্রিদকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু পরে তারা উপস্থিত হওয়া বন্ধ করে দেয়। তারা প্রতিযোগিতাটাকেই ধ্বংস করতে চায়।”
২০২১ সালের এপ্রিলে ঢাকঢোল পিটিয়ে ইউরোপিয়ান সুপার লিগের ঘোষণা দিয়েছিল রেয়াল, বার্সেলোনাসহ ইউরোপের ১২টি ক্লাব। তবে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে ফুটবল সংস্থাগুলোর প্রবল চাপ এবং সাবেক-বর্তমান ফুটবলারদের তীব্র সমালোচনার মুখে তিন দিনের মধ্যে সরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ডের ছয়টি ক্লাবসহ ৯ ক্লাব। রয়ে যায় কেবল রেয়াল, বার্সেলোনা ও ইউভেন্তুস।
পরে ইউভেন্তুস এবং গত বছর বার্সেলোনাও ছেড়ে দেয় রেয়ালের সঙ্গ। এরপর থেকেই কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে রেয়ালের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে বলে মনে করেন তেবাস। তার মতে, বার্সেলোনাকে বলপ্রয়োগের চেষ্টা করছে রেয়াল মাদ্রিদ।
“কী কাকতালীয় ব্যাপার, বার্সেলোনা সুপার লিগ ছেড়ে আসার পর থেকেই রেয়ালের এই ক্ষিপ্ত আক্রমণ শুরু হয়। এটাকে বলা হয় বলপ্রয়োগ। বিষয়টি এমন যে, সঙ্গে থাকলে, সবকিছু নিজের মধ্যে রাখব, আর না থাকলে, তখন সব প্রকাশ করে দেব।”