নিজের পকেটের টাকায় চতুর্থ স্তরের দলে খেলছেন সাবেক লিভারপুল স্ট্রাইকার!
এক সময়ের সবচেয়ে দামি ব্রিটিশ ফুটবলার অ্যান্ডি ক্যারল এখন খেলছেন ফরাসি ক্লাব বোর্দোর হয়ে, নতুন ঠিকানায় শুরুটাও দারুণ হয়েছে তার।
ফরাসি ফুটবলের চতুর্থ স্তরে খেলার জন্য কোনো পেশাদার ফুটবলার নিজের পকেটের অর্থ খরচ করবেন, তা অভাবনীয়। তবে বিরল সেই কাজটিই করছেন সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার অ্যান্ডি ক্যারল।
ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তরে ক্যারল খেলেছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেড, লিভারপুল, ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে। একটা সময়ে তিনি ছিলেন সবচেয়ে দামি ব্রিটিশ ফুটবলার, ২০১১ সালে যখন যোগ দিয়েছিলেন লিভারপুলে। প্রিমিয়ার লিগে করেছেন ৫৪ গোল, বছরে আয় করেছেন লাখ লাখ পাউন্ড। সেই তিনি এখন ফরাসি ক্লাব বোর্দোয় মাসে আয় করবেন মাত্র সাড়ে ৩ হাজার ইউরো।
৩৫ বছর বয়সী ক্যারল ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় বললেন, ফুটবল খেলতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের।
“সত্যি বলতে, বোর্দোর হয়ে খেলতে আমার অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। আমি ফুটবল খেলতে পেরেই খুশি। ক্লাবের ইতিহাসের অংশ হতে চাই। সত্যি বলতে, এটা অর্থের বিষয় নয়। আমার ক্যারিয়ারে অর্থ কখনোই কোনো বিষয় ছিল না।”
“কোন স্তরে খেলবেন, তা আসলে কোনো ব্যাপার নয়... সত্যিই আশা করি, আমরা এই মৌসুমে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”
বেশ ভালো সম্ভাবনা নিয়ে ইংলিশ ফুটবলে আসা ক্যারল ক্যারিয়ার শুরু করেন নিউক্যাসলে। সেখান থেকেই ট্রান্সফার ফ্রি রেকর্ড গড়ে যোগ দেন লিভারপুলে। গত মৌসুমে ফরাসি ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের দল আমিয়াঁর হয়ে খেলেন তিনি।
গত সপ্তাহে তিনি যোগ দেন বোর্দোয়। দ্বিতীয় থেকে তাই ফরাসি ফুটবলের চতুর্থ স্তরে নেমে যেতে হয় তাকে।
সেটা যদিও ক্যারলকে বোর্দোয় যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি। ক্লাবটিকে আবার শীর্ষ পর্যায়ে তোলার প্রত্যয় তার কণ্ঠে।
“দুর্ভাগ্যবশত ক্লাবটি বেশ কয়েক বিভাগ নিচে নেমে গেছে, তবে এটি দুর্দান্ত একটি ক্লাব এবং আমরা ক্লাবকে সেখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।”
বোর্দোর জার্সিতে ক্যারলের অভিষেকটাও হয়েছে মনে রাখার মতো। গত সপ্তাহে ভল্টিজা ডে শাঁটোব্রিয়োঁর বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ক্যারলের জোড়া গোলে ২-২ ড্র করেছে দলটি।
“সত্যি বলতে, দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল, ভক্তরা ছিল অসাধারণ। প্রথমার্ধে আমরা ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম এবং তারা আমাদের উজ্জীবিত করেছিল।”
“এই দুটি গোল করতে পেরে ভালো লেগেছে, বিশেষ করে সেখানে উপস্থিত ভক্তদের জন্য। দারুণ এক অনুভূতি ছিল।”
