২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 13 May 2026, 08:26 AM
মূলত সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তবে খেলতে পারেন রাইট-ব্যাক হিসেবেও। সম্ভাবনাময় প্রতিভা থেকে ২৪ বছর বয়সে ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রভাববিস্তারি খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন মোইসে কাইসেও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজের অবস্থান পাকা করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপে খেলার অপেক্ষায় তিনি। বিশ্ব আসরে একুয়েডরের এগিয়ে যাওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে তার ওপর।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন একুয়েডরের মিডফিল্ডার মোইসে কাইসেও।
ফুটবলের আঙিনায় কাইসেদোর অর্জন
তখন স্বদেশের ক্লাব ইন্দিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়ের যুব দলে খেলছিলেন কাইসেও। তাকে প্রথম দেখাতেই ক্লাবটির মূল দলের কোচ মিগেল রামিরেস বুঝে যান, ফুটবলে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে এই তরুণের। রামিরেসের হাত ধরেই ২০১৯ সালে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় কাইসেওর।
রামিরেস প্রাথমিকভাবে কাইসেওকে ‘নাম্বার এইট’ হিসেবে খেলাতেন। তবে ইউরোপে পাড়ি জমানোর পর তিনি পরিপূর্ণ মিডফিল্ডারে পরিণত হন। এখন বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন তিনি।
ইন্দিপেনদিয়েন্তে থেকে ২০২১ সালের শুরুতে ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নে যোগ দেন কাইসেও। এখানে নিজের প্রথম মৌসুমে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। ২০২১-২২ মৌসুমের প্রথমার্ধে বেলজিয়ামের এক ক্লাবে ধারে পাঠানো হয় তাকে। তবে অন্য মিডফিল্ডারদের চোটের কারণে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।
ওই বছরের এপ্রিলে আর্সেনালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচ দিয়ে তার প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয় এবং শুরু থেকেই দারুণ খেলতে থাকেন। পরের মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দলের ৩৮ ম্যাচের ২৭টিই খেলেন তিনি।
ব্রাইটনে আলো ছড়িয়েই ২০২৩ সালের অগাস্টে ব্রিটিশ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে চেলসিতে নাম লেখান কাইসেও। এখন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে দলটির উয়েফা কনফারেন্স লিগ ও ২০২৫ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে শতাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কাইসেও।

কোচ ও সতীর্থের চোখে কাইসেও
“মইয়ের (কাইসেও) সঙ্গে খেলা উপভোগ করি আমি। দারুণ ও পরিপূর্ণ একজন খেলোয়াড় সে। বল কেড়ে নেয়, তার শটও বেশ শক্তিশালী এবং সে সৃজনশীল: তার মধ্যে সবকিছুই আছে। তার পাশে খেলাটা আনন্দের ব্যাপার। সত্যিকারের তারকা সে।”
- এন্সো ফের্নান্দেস, চেলসি মিডফিল্ডার
“একজন কোচের জন্য আদর্শ খেলোয়াড় সে। মই দারুণ ফুটবলার, শুধু এককভাবেই নয়, বরং এই কারণেও যে, তার চারপাশের সবাইকে আরও ভালো করে তোলে সে।”
- এন্টসো মারেস্কা, সাবেক চেলসি কোচ
“কতটা জায়গা জুড়ে সে খেলে, পাশাপাশি লড়াইয়ে কতটা সে লেগে থাকে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সে (পুরোটা সময়) খেলায় সম্পৃক্ত থাকে, দ্রুত মুভ করে এবং পজেশন পুনরুদ্ধার করে। খুব নিখুঁতভাবে বল কেড়ে নেয়… সে ম্যাচ পরিস্থিতি দ্রুত পড়তে পারে এবং আমাদের সম্মিলিত খেলার অংশ হতে পছন্দ করে। সতীর্থদের সাহায্য করতে এবং সামনে এগিয়ে যেতে ভালোবাসে, কারণ সে মূলত প্লেমেকার হিসেবেই তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিল।”

- সেবাস্তিয়ান বেকাচেসে, একুয়েডর কোচ
পরিসংখ্যানের আলোয় কাইসেও
• ২০২২ সালের নভেম্বরে ২১ বছর ২৭ দিন বয়সে সেনেগালের বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোল করে বিশ্বকাপে একুয়েডরের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন কাইসেও। তিনি ভেঙে দেন এদিসন মেন্দেসের রেকর্ড। ২০০২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করার সময় মেন্দেসের বয়স ছিল ২৩ বছর।
• ২০২৫ সালে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে তৃতীয় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘ব্রোঞ্জ বল’ জেতেন কাইসেও।
বিশ্বকাপে কাইসেও
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ২১ বছর বয়সে কাইসেও ছিলেন একুয়েডরের সেরা পারফরমারদের একজন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই শুরুর একাদশে নামেন তিনি। স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরুর পর, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ১-১ ড্র করে একুয়েডর।
কিন্তু গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। সেনেগালের কাছে হেরে যাওয়া শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের নিজের প্রথম গোল করেন কাইসেও। ওই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা এবারের আসরে নিশ্চিতভাবে কাজে লাগবে তার।

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে কাইসেও ও একুয়েডরের প্রত্যাশা
বিশ্বকাপে একুয়েডরের সেরা সাফল্য ২০০৬ সালে শেষ ষোলোয় খেলা। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য তাদের। কাইসেও যেমন জোর দিয়ে বলেছেন, “আমাদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপটি খেলতে চাই আমরা।”
সেই সামর্থ্য তাদের আছে। আর সেখানে তাদের বড় ভরসা কাইসেও।
আগামী ১৪ জুন কোত দি ভোয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে একুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপে পরের ম্যাচ খেলবে তারা ২০ জুন কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। আর ২৫ জুন জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে দলটি। তবে এখানেই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হবে না বলে আশাবাদী তারা।