ফেরার ম্যাচে উজ্জ্বল সালাহ, সিটির সঙ্গে ব্যবধান বাড়াল লিভারপুল

ব্রেন্টফোর্ডকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Feb 2024, 02:52 PM
Updated : 17 Feb 2024, 02:52 PM

সব ঠিক থাকলে হয়তো আরও পরে নামতেন মোহামেদ সালাহ। দিয়োগো জটার চোটে মাঠে এলেন আগেভাগেই। বিরতির আগে-পরে নষ্ট করলেন দুটি সুযোগ। তবে চোট কাটিয়ে ফেরা মিশরের ফরোয়ার্ড দ্রুতই ফিরলেন ছন্দে। গোল করলেন, সতীর্থের গোলে অবদান রাখলেন। ব্রেন্টফোর্ডকে উড়িয়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান বাড়াল লিভারপুল।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে শনিবার প্রতিপক্ষের মাঠে ৪-১ গোলে জিতেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।

দারউইন নুনেসের গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লিভারপুল। আলেক্সিস মাক আলিস্তেরের গোলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ায় তারা। তার গোলে অবদান রাখা সালাহ একটু পরেই স্কোর লাইন ৩-০ করে ফেলেন।

খেলার ধারার বিপরীতে গোল করে ম্যাচ জমিয়ে তোলার আভাস দেন আইভান টোনি। তবে শেষ দিকে গোল করে সব উত্তেজনায় জল ঢেলে দেন কোডি হাকপো।

শুরুতেই সুযোগ আসে ব্রেটফোর্ডের সামনে। তৃতীয় মিনিটে বক্সের ভেতরে যথেষ্ট সময় ও জায়গা পেয়েছিলেন ভিটালি ইয়ানেল্ট। জার্মান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার শট রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।

সাত মিনিট পর নিজেদের প্রথম ভালো সুযোগ পায় লিভারপুল। বেশ কয়েক জনের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ভেতরে ঢুকে যান কনর ব্র্যাডলি। তরুণ ডিফেন্ডার শট রাখেন লক্ষ্যেই কিন্তু পরাস্ত করতে পারেননি স্বাগতিক গোলরক্ষককে।

পঞ্চদশ মিনিটে সুযোগ আসে টোনির সামনে। ব্রেন্টফোর্ড ফরোয়ার্ড শট রাখতে পারেননি লক্ষ্যে।

বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য করলেও খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না লিভারপুল। ৩৫তম মিনিটে তারা এগিয়ে যায় নুনেসের দারুণ ফিনিশিংয়ে।

নিজেদের অর্ধ থেকে ফ্রি কিকে ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক বল পাঠান লিভারপুলের ডি বক্সে। বল ক্লিয়ার করার জন্য উঁচু করে মাঝমাঠে পাঠান ভার্জিল ফন ডাইক। সের্হিও রেগিলনের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে হেড করেন জটা। বল পায়ে মাঝমাঠ থেকে দ্রুত গতিতে ছুটে গিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে জাল খুঁজে নেন অরক্ষিত নুনেস।

চলতি আসরে উরুগুয়ের দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকারের এটি নবম গোল।

চোটের জন্য কার্টিস জোন্সের পর জটাও প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়েন। তার জায়গাতে ৪৪তম মিনিটে মাঠে আসেন সালাহ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন তিনি। পেনাল্টি স্পটের কাছে লুইস দিয়াসের কাট ব্যাক ঠিক মতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। তাই ঠিক মতো শটও নিতে পারেননি, হাতছাড়া হয় খুব ভালো সুযোগ।

বিরতির পর মাঠে নামেননি নুনেসও। লিভারপুলের খেলায় অবশ্য এর খুব একটা প্রভাব পড়েনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জালের দেখা পেতে পারতেন সালাহ। ৫২তম মিনিটে ফন ডাইকের হেডে বিপজ্জনক জায়গায় বল পেলেও তাড়াহুড়া করে শট নিয়ে বাইরে মারেন তিনি। নষ্ট হয় খুব ভালো একটি সুযোগ।

তিন মিনিট পরেই মাক আলিস্তেরের দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লিভারপুল। বল ক্লিয়ার করতে মাঝ মাঠে শট নেন ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক। সতীর্থের পা ঘুরে পেয়ে যান সালাহ। ডি বক্সে তিনি খুঁজে নেন মাক আলিস্তেরকে। পা বাঁয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। সঙ্গে থাকা স্বাগতিকদের দুই খেলোয়াড় কিছুই করতে পারেননি, গোলরক্ষকও ঝাঁপিয়ে নাগাল পাননি।

৬৮তম মিনিটে জালের দেখা পান সালাহ। লিভারপুল গোলরক্ষক কুইভেন কেলাহারের উঁচু করে বাড়ানো বলে হাকপোর ফ্লিকে বল পেয়ে যান অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডার ন্যাথান কলিন্সের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে আড়াআড়ি শটে বল জালে পাঠান সালাহ।

ছয় মিনিট পর ব্যবধান কমায় ব্রেন্টফোর্ড। রেগিলনের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক। ফিরতি বলে টোনির বুলেট গতির শট আর ফেরাতে পারেননি তিনি।

ব্যবধান কমালেও লিভারপুলকে চেপে ধরতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড। উল্টো রক্ষণের ভুলে ৮৬তম মিনিটে হজম করে আরেকটি গোল। স্বাগতিকদের একজন ঠিক মতো শট নিতে পারায় বল পেয়ে যান দিয়াস। তার পাস যায় ব্রেন্টফোর্ডের একজনের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে! সেই বল ধরেই জাল খুঁজে নেন হাকপো।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিট ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিলেন টোনি। কিন্তু খুব কাছে থেকে তার হেড চমৎকার রিফ্লেক্সে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক। শেষ দিকে ফন ডাইকের হেড ক্রসবারে লেগে ফেরায় ব্যবধান বাড়েনি।

২৫ ম্যাচে ১৭ জয় ও ছয় ড্রয়ে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে রয়েছে লিভারপুল। ২৩ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ম্যানচেস্টার সিটি।

২৪ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে আছে ব্রেন্টফোর্ড।