উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 03 Jun 2026, 09:33 PM
ভারতের বিপক্ষে হারের ধাক্কা ছিল। সেই সঙ্গে সতীর্থ শিউলি আজিমের মায়ের মৃত্যুর শোক। তবে, তাড়না ছিল হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার। শোককে শক্তিতে রূপ দেওয়ার, নেপালকে হারিয়ে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার। সব চাওয়া পূরণের আনন্দে স্বাভাবিকভাবে অধিনায়ক মারিয়া মান্দার হাসিটা হলো চওড়া।
শুরুর দিকে অবশ্য হাসি উধাও হয়ে গিয়েছিল। ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বুধবার ২২তম মিনিটে গীতা রানীর গোলে এগিয়ে যায় নেপাল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ঋতুপর্ণা চাকমা কর্নার থেকে সরাসরি লক্ষ্যভেদ করলে স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশের তাঁবুতে।
এরপর ম্যাচ ছুটছিল অতিরিক্ত সময়ের দিকে। তবে, যোগ করা সময়ে প্রীতি রায় আত্মঘাতী হলে ২-১ ব্যবধানে জিতে যায় বাংলাদেশ।
এই জয়ে যেন বদলে যায় সবকিছু। ভারত ম্যাচে হারের পর মিক্সড জোনে কথাই বলেননি মনিকা-মারিয়াদের কেউ। শিউলির মায়ের মৃত্যুর পর অনুশীলনেও নামেনি দল। এদিন মাঠেও আসেন তারা বিষন্ন মুখে। নেপালকে হারানোর পর সেই মুখগুলোয় ফুটল হাসি। মারিয়াও হাসিমুখে বললেন, নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ বের করে নেওয়ার বিশ্বাস ছিল তাদের।
“আসলে, আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব, দলকে বলেছিলাম। সবাই সবার সেরাটা দিয়ে খেলেছি। খেলার মধ্যে আপনার হার-জিত থাকে, তো এর আগে আমরা একটা ম্যাচ হেরেছিলাম (ভারতের বিপক্ষে)। এজন্যই আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি; আমরা ফাইনালে খেলব।”
“দেখুন, ৯০ মিনিট শেষ না হলে খেলা কিন্তু খেলা শেষ হয় না, যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনার খেলা কিন্তু ঘুরে দাঁড়ায় (বদলে যায়)। গোল তো খাবই, এমন না যে, আমরা গোল খাবো না, তো আসলে, এটা খেলার উপর নির্ভর করে সবকিছুই। আমাদের বিশ্বাস ছিল যে, আমরা ৯০ মিনিট নিজেদের সর্বোচ্চটা দিলে অবশ্যই ফল বের হয়ে আসবে। আসলে এটা আমাদের কপালেও ছিল, তাই জিততে পেরেছি।”
শিউলি সম্পর্কে মারিয়ার আত্মীয়। ম্যাচের আগের দিন সতীর্থের মায়ের মৃত্যুতে কেবল তিনি নন, শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল দল। মারিয়া বললেন, শিউলির মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন তারা।
“আসলে, আমরা সবাই একসাথে এখানে খেলতে আসছি, তো কারো পরিবারের যেকোনো কিছু হলে কিন্তু মনে হয়, নিজেদের পরিবারে হয়েছে। শিউলির ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, ও মা হারিয়েছে, তো ওর মনের ভিতরে যে কষ্টটা, সেটা আমরা সবাই অনুভব করেছি। এটা তো আমাদের পরিবারেও হতে পারত। শিউলির মায়ের মৃত্যুতে আমরা সবাই আসলে খুবই কষ্টে ছিলাম। এজন্যই আমাদের লক্ষ্য ছিল, আমরা দেশকে কিছু দেব এবং শিউলির মার নামে এটা উৎসর্গ করব।”