Published : 07 Apr 2026, 09:01 PM
যেকোনো মূল্যে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে দেখতে চায় সান্তোস। তাই তো আন্তর্জাতিক বিরতির সময় তারকা এই ফরোয়ার্ডের হাঁটুতে বিশেষ চিকিৎসা করিয়েছে ক্লাবটি। প্রধান কোচ কুকা বলেছেন, বৈশ্বিক আসর শুরুর আগে নেইমারকে প্রায় সব ম্যাচেই পেতে চান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বড় ধরনের চোটে পড়ার পর, আর দেশের জার্সিতে ফেরা হয়নি নেইমারের। সাম্প্রতিক সময়ে তার ফিটনেসে উন্নতির আভাস মিলেছে এবং পারফরম্যান্সও আশা জাগাচ্ছে। তবে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বারবারই বলেছেন, শতভাগ ফিট না হলে কাউকে দলে নিবেন না তিনি। তাই বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে পুরোপুরি ফিট করতে চায় সান্তোস।
ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গত মাসে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচ দুটির প্রাথমিক দলে নেইমারকে রাখেন আনচেলত্তি। যদিও ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলারকে চূড়ান্ত দলে রাখেননি কোচ। এই সময়টাই কাজে লাগায় সান্তোস।
কার্ডের কারণে গত রোববার ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে নেইমারকে পায়নি সান্তোস। এর আগের ম্যাচেই রেমোর বিপক্ষে পুরো সময় খেলেন তিনি। বার্সেলোনা, পিএসজি, আল হিলাল ঘুরে ব্রাজিলের ফুটবলে ফেরা ঘরের ছেলে নেইমারকে আবার আপন করে নিয়েছে সান্তোস। তাকে বিশ্বকাপের আগে ফিট করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
নেইমারের হাঁটুর বিশেষ চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে সান্তোস কোচ বলেন, টানা ১৩ ম্যাচে তাকে খেলাতে চান তারা। সেই ধকল সইতেই নেইমারের শরীরকে তৈরি করা হচ্ছে।
“(আন্তর্জাতিক) বিরতির সময় তার হাঁটুর (বিশেষ) এক চিকিৎসা করা হয়, তাই অনুশীলনে যোগ দিতে পারেনি সে। রিকভারির জন্য তার চার-পাঁচদিন সময় লেগেছে। পূর্ণ ফিটনেস পেতে প্রয়োজনীয় কাজ করেছে।”
“এই সপ্তাহে শারীরিক শক্তি, গতি এবং সহনশীলতা বাড়াতে কাজ করছে। সামনে আন্তর্জাতিক বিরতির আগের টানা ১৩টি ম্যাচের জন্য সে প্রস্তুত থাকবে। তাই আমরা কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল টিম মিলে এই সময়টা কাজে লাগিয়েছি তার শক্তি বাড়াতে এবং বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাকে ফিট রাখতে।”
নেইমারের হাঁটুতে কী ধরনের চিকিৎসা করা হয়েছে, তা খোলাসা করেননি কুকা। তবে সংবাদ মাধ্যমের খবর, শরীরের কোষ পুনর্গঠন দ্রুততর করতে ও ছোটখাটো চোটগুলোকে দ্রুত সারিয়ে তুলতে ‘পিআরপি’ (প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে নেইমারের শরীরে।
ব্রাজিলের হয়ে রেকর্ড ৭৯ গোল করেছেন নেইমার। তিনটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। আরেকটি বিশ্বকাপে তাকে দেখার অপেক্ষায় ব্রাজিলিয়ানরা। সেটা পূরণ হবে কিনা, সময়ই বলবে।