শেরপুরে অন্তঃসত্ত্বা সতীন হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ বছর পর গ্রেপ্তার
২০০৫ সালে ৫ এপ্রিল আঞ্জুমানারা বেগমের প্ররোচনা ও সহায়তায় নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি মারেন।
শেরপুরের নকলায় অন্তঃসত্ত্বা সতীনকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এক নারীকে ১৯ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার রাত সোয়া ৭টার দিকে ময়মনসিংহ সদর থানার চরশসা জয় বাংলা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবরার ফয়সাল সাদী।
বুধবার রাতে মেজর আবরার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, গ্রেপ্তার আঞ্জুমানারা বেগম (শেফালি) নকলা থানার বাছুর আলগা গ্রামের নুরুল আমিন বৈঠার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার সহায়তায় ও প্ররোচনায় ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে হত্যা করেন নুরুল আমিন।
এরপর থেকে তারা পলাতক ছিলেন। পলাতক অবস্থায় মারা যান নুরুল আমিন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মেজর আবরার জানান, নূরুল আমিন বৈঠার দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।
২০০৫ সালে ৫ এপ্রিল তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আঞ্জুমানারা বেগমের প্ররোচনা ও সহায়তায় নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি মারেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের ভাই মো. আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে নকলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় পলাতক আসামি আঞ্জুমানারা বেগমের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন।
আর পলাতক অবস্থায় নুরুল আমিন মারা যাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আসামি আঞ্জুমানারা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করতে নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব।
