১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেট সিটি ভোট: হেরে গেলেও ‘মেনে নেবেন’ আনোয়ারুজ্জামান

“ইভিএম খুবই ভালো, খুবই সুন্দর, পরিষ্কার একটি পদ্ধতি, ইভিএমে সবাই খুব সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারবে।”

সিলেট সিটি ভোট: হেরে গেলেও ‘মেনে নেবেন’ আনোয়ারুজ্জামান

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো.আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2023, 09:24 AM

Updated : 21 Jun 2023, 09:23 AM

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো.আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, নৌকার পক্ষে যে ‘ইতিবাচক সাড়া’ তিনি দেখতে পাচ্ছেন, তাতে জয়ের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।

তবে শেষ পর্যন্ত যদি হেরেও যান, ভোটের ফল মেনে নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে নগরীর পাঠানটুলায় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন নৌকার প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান।

ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সবাইকে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সমস্ত সিলেটবাসীকে আহ্বান জানাই, সবাই এসে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন, এবং নৌকায় একটি ভোট দেবেন, আমাকে জয়যুক্ত করবেন।”

সিলেটের মানুষ ‘স্বতস্ফূর্তভাবে উন্নয়নের প্রতীক নৌকাকে গ্রহণ করেছে’ দাবি করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বলেন, “জয়ের বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী, মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখতে পাচ্ছি। মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা… সবাই, নারী পুরুষ, মুরুব্বিয়ান, যুবক, ছাত্র, সবাই কিন্তু নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব।

“আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ তায়লার হুকুমে, আজকে ৪টায় ভোট গণনার পরে নৌকার জয় নিশ্চিত হবে ইনশাল্লাহ।”

সিলেট নগরীর ১৯০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এ সিটিতে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন; সব কেন্দ্রেই এবার ইভিএমে ভোট হচ্ছে। 

ইভিএমে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আনোয়ারুজ্জামান বলেন, “ইভিএম খুবই ভালো, খুবই সুন্দর, পরিষ্কার একটি পদ্ধতি, ইভিএমে সবাই খুব সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারবে, একটা ইজি পদ্ধতি।”

বিএনপি ভোটে না এলেও এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করলেও এ নির্বাচন ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হচ্ছে বলে মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী।

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। আমরা তো অনেক কষ্ট করছি, আমাদের নেতাকর্মীরা, তারা রাতদিন… গতরাতে আমাদের এই শহরে ১৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে আমাদের কয়েক হাজার নেতাকর্মী, কেউ এখনও ঘুমায় নাই।” 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আনোয়ারুজ্জামান বলেন, “আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আমার দল একটি গণতান্ত্রিক দল, স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই দলের সম্পৃকতা ছিল।

“আমি বিশ্বাস করি, আমি যদি নির্বাচনে হেরেই যাই, তারপরও আমি এই ফলাফল মেনে নেব।”

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কয়েক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, তাদের এজেন্টদের হয়ত কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে। ভোটের সকালে সেরকম কোনো চেষ্টা দেখেছেন কিনা, তা জানতে চান এক সাংবাদিক।

উত্তরে নৌকার প্রার্থী বলেন, সিলেট শহরে ১৯০টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩শ এজেন্ট দিতে হয়। সব সেন্টারে সব প্রার্থী এজেন্ট দিতে পারবে, এটা ‘আশা করা যায় না’।

আনোয়ারুজ্জামানসহ মোট সাতজন প্রার্থী সিলেটের মেয়র পদের এ ভোটের লড়াইয়ে আছেন।

বাকিরা হলেন জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) [বর্জন করলেও ইভিএম ব্যালটে নাম থাকবে], জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান মিয়া (বাস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ)।