২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় নিখোঁজ মাইদুল, পরিবারের ঘাড়ে ৩৯ লাখ টাকা ঋণ

পরিবারের অভিযোগ, তাকে লিবিয়ায় নিয়ে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে মাফিয়া চক্র।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 08:19 PM

Updated : 24 Sep 2026, 08:19 PM

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে ইতালির পথে যাত্রা করেছিলেন মাদারীপুর সদরের সাইদুল বেপারী (৩৫)। শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে তাকে লিবিয়ায় নেওয়ার পর একটি মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

সাইদুলের জন্য দফায় দফায় দালালকে মোট ৩৯ লাখ টাকা নেওয়া হলেও এখন দুই মাস ধরে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। তারা জানেন না, সাইদুল আদৌ বেঁচে আছেন কিনা!

সাইদুল সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর দত্তের হাট এলাকার মৃত জহিরুল বেপারীর ছেলে। ইতালি যাওয়ার জন্য তিনি একই উপজেলার ঘটকচর এলাকার মৃত বাদশা ফরাজির ছেলে আনোয়ার ফরাজী আনুর সঙ্গে ২৩ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন বলে জানায় পরিবার।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৯ জুন সাইদুল ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন।

পরিবারের অভিযোগ, তাকে লিবিয়ায় নিয়ে একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে মাফিয়া চক্র। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। সাইদুলকে আরও নির্যাতন করা হবে- এমন ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে মোট ৩৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়। দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।

সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। চার বছরের মেয়ে ও ১১ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় আছেন স্ত্রী মেরি আক্তার। সংসারের খরচ ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় তিনি।

মেরি আক্তার বলেন, “আমার মেয়েটা প্রতিদিন তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চায়। মোবাইল সামনে এনে বলে, বাবার সঙ্গে কথা বলবো। কিন্তু ওর বাবা তো আর ফোনের ওপাশে নেই। তাই কষ্ট নিয়ে চুপ হয়ে থাকতে হয় আমাদের।

“আমি কীভাবে সন্তানদের মানুষ করব, বুঝতে পারছি না। তিনি কীভাবে আছেন, কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন কিনা- কিছুই জানি না। দুই মাস ধরে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।”

সাইদুলের মা সূর্যবান বেগম বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমিজমা বিক্রি, ধারদেনা ও সুদে টাকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়া হলেও ছেলের কোনো সন্ধান মিলছে না।

“আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি। মনে হয়, এই বুঝি আমার ছেলে এসে ডাকবে। আমি আমার ছেলেকে বুকের মধ্যে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই।”

একই দাবি জানান সাইদুলের ভাই মাহিদুল হোসেন বেপারী ও সামাদ হোসেন বেপারী।

১১ সেপ্টেম্বর সামাদ হোসেন বেপারী বাদী হয়ে মাদারীপুর আদালতে মামলা করেন। মামলায় আনোয়ার ফরাজী আনু, তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘দালাল’ আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এটা আমাকে হয়রানি করার জন্যই করেছে।”

তবে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে জানতে পেরেছি। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”