এইচএসসি: বরিশালে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে
পরীক্ষায় এমন ফলের পেছনে মোবাইল আসক্তি, ক্লাসে অমনোযোগ ও কোচিংনির্ভরতাকে দায়ী করছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
এ বছর পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক হাজার ৬৭৪ জন।
শনিবার বোর্ডের সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইসে বেশি সময় কাটানো, ক্লাসে অমনোযোগী থাকা, কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা এবং পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাওয়ায় পাসের হার কমেছে। ভালো ফলের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ বছর বরিশাল বোর্ডের অধীনে ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭০ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞানে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মানবিকে ৪১ দশমিক ৯৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ।
ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের পাসের হার বেশি। ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলে পাসের হারে এগিয়ে পিরোজপুর। এ জেলায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাস করেছে ঝালকাঠিতে, ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
এ বছর বোর্ডের ১১টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে পটুয়াখালী ও ভোলায় তিনটি করে, পিরোজপুর ও বরগুনায় দুটি করে এবং ঝালকাঠিতে একটি কলেজ রয়েছে। অন্যদিকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে মাত্র তিনটি কলেজে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়নের পর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।
