Published : 06 Jan 2024, 09:31 PM
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধবিহারে অগ্নিসংযোগ ‘পূর্বপরিকল্পিত নাশকতার’ চেষ্টা বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা।
শুক্রবার রাত ২টার দিকে রামু উপজেলা সদরের চেরাংঘাটায় রাখাইনদের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরি ‘উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারে’ (বড় ক্যাং) আগুন দেয় অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক। এতে বিহারের কাঠের সিঁড়ির কিছু অংশ পুড়ে গেলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, বিহারে আগুন লাগার ২০ মিনিটে আগে রামু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি অগ্নিকাণ্ডের মিথ্যা তথ্য দেয় এক ব্যক্তি। ফায়ার সার্ভিসকে বিভ্রান্ত করতে এ ফোন করা হয়।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার জামিলুল হক জানিয়েছেন, বিহারের সিসিটিভির ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে মুখে মাস্ক পরিহিত এক যুবক বিহারের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে আগুন দিয়েছে। আগুন দেওয়ার আগে কেরোসিন ঢেলেছে। বিহারের অবস্থানরত ভান্তে এবং অন্যরা জানিয়েছেন প্রবেশের প্রধান দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
“সবকিছু বিবেচনায় এটা পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। আর নাশকতার আগে ফায়ার সার্ভিসকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়।”
ফায়ার সর্ভিসের রামু স্টেশনের ইনচার্জ সুমেন বড়ুযা জানান, শুক্রবার রাত ১টা ৪৫ মিনিটে একটি এয়ারটেল মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় ঈদগড় বাজারে আগুন ধরেছে। খবর পেয়ে দ্রুত গাড়ি নিয়ে রওয়ানা হন তারা। গাড়িটি জোয়ারিয়ানালা অতিক্রম করার পর একই ফোন নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় কতদূরে রয়েছেন এবং তাড়াতাড়ি আসতে বলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের অবস্থান ফোনের ওই ব্যক্তিকে জানিয়ে দ্রুত যাওয়ার হচ্ছে বলে জানানো হয়।
“কিন্তু ঈদগড় বাজারে পৌঁছার পর কোথাও আগুন দেখা যায়নি। এ সময় নম্বরটিতে ফোন করা হলে ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে রামু ফিরে আসার পর বিহারে আগুন লাগার খবর পাই।”
বিহারটির ভিক্ষু জ্ঞানালংকার মহাথের বিলেন, রাতে সকলেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল। পোড়ার গন্ধে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর সবখানে ধোঁয়া দেখা যায়। সকলকে ঘুম থেকে তুলে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে আগুন দেখে চিৎকার দিলে এলাকার লোকজন এসে আগুন নেভানো শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসে।
রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের দেড়শ বছরের পুরানো কাঠের তৈরি ‘উসাইচেন বৌদ্ধ বিহারের’ পুরোহিতসহ অন্যরা প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এ সময় বৌদ্ধ বিহারের ভিতরে অবস্থানকারীরা শোর-চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
“আগুনে বৌদ্ধ বিহারটির ভিতরের কাঠের তৈরি একটি সিঁড়ি পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিক আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যুবক এবং ফোনে ফায়ার সার্ভিসকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করলে সব পরিষ্কার হবে।”
এই ভিডিওতে ধরা পড়া যুবক ও ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে বিভ্রান্তকারীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজছে বলে তিনি জানান।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায় একদল লোক। একইসঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ৩০টি বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার ঘটনায় পুলিশের করা ১৮টি মামলার বিচার ৯ বছরেও শেষ হয়নি।
আরও পড়ুন