লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়া এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন।
শুক্রবার নির্যাতনের ভিডিও ছড়ানোর পর থেকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন রামগতি পৌরসভার সভাপতি হাবিবুল্লাহ নীরব পলাতক আছেন। যে-কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
ইউএনও শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, “ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আমার কাছে এসেছিলেন। তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।”
ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশু শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছে। এক পর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতেও দেখা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে দেখা গেছে। আরও একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আলাদা ছবিতে দুই শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটিতে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। কারণে অকারণে শিক্ষার্থীদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।
এমন অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে। ভয়ে তারা বাড়িতে এসে কিছু বলতো না। ভিডিও ছড়ানোর পর শিক্ষকদের নিষ্ঠুরতা সামনে আসে। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিভাবকরা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন। একজন শিক্ষক এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করেছে আবদুল মতিন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব মোবাইলে বলেন, “একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”
