ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি
শিশুটির মা বলেন, “বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম সন্তান হয়েছে। আল্লাহ জানেন আমার শিশুটি কেমন আছে? আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে দুই দিন বয়সি এক নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ড থেকে এক নারী নবজাতককে চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি খায়রুল আলম।
নবজাতকের মা মরিয়ম বেগম জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের সাতবর্গ গ্রামের রাজমিস্ত্রী শামিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
প্রসব বেদনা নিয়ে সোমবার মরিয়ম হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে মা-ছেলে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নবজাতকের পরিবার ও হাসপাতালের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে হাসপাতালের শয্যায় নিজের সন্তান নিয়ে শুয়েছিলেন মরিয়ম।
আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সি বোরকা পড়া এক নারী আরেক রোগীর স্বজন বলে পরিচয় দিয়ে মরিয়মের মাথায় হাত বুলান। কথা বলার ফাঁকে মরিয়মের দুইদিন বয়সী নবজাতককে কোলে নেন ও শয্যার পাশে বসেন ওই নারী।
একপর্যায়ে মরিয়ম শয্যা থেকে ওঠে ওয়ার্ডের বাইরে গিয়ে তার স্বামী শামীম মিয়ার খোঁজ করেন। সে সময় ওই নারীও নবজাতককে কোলে নিয়ে মরিয়মের পেছনে পেছনে যান।
এক পর্যায়ে তিনি কৌশলে নবজাতককে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা গাইনী ওয়ার্ডে ছুটে আসেন।
মরিয়ম বেগম বলেন, “ওই মহিলা মাথায় হাত বুলিয়ে আমার সন্তানকে কোলে নেয়। ওয়ার্ডের বাইরে গেলে ওই মহিলাও আমার পেছনে আসে। ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকে পেছনে তাকাতেই মহিলাকে আর পাইনি।”
আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম সন্তান হয়েছে। আল্লাহ জানেন আমার শিশুটি কেমন আছে? আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই।”
মরিয়মের মা মমতা বেগম বলেন, “আমি বাথরুমে গিয়েছিলাম। দুই মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে দেখি আমরা নাতী ও মহিলাকে পাইনি। আমার নাতীকে ফেরত চাই।”
শিশুর বাবা শামীম মিয়া বলেন, “আমি আমার সন্তান ফেরত চাই। সন্তান না নিয়ে আমি হাসপাতাল থেকে যাব না।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও শাহীনুর আলম বলেন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। সেখানে এক নারীকে নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।
সদর থানার ওসি খায়রুল আলম বলেন, নবজাতককে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
