২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্রী হলে চুরির অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আগামী সপ্তাহের মধ্যে হলের চারপাশে দেয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টদের নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 09:58 PM

Updated : 28 Oct 2026, 09:58 PM

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হল বনলতা ও অপরাজিতায় চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হলের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গোলাম সরওয়ার বলেন, “প্রক্টরিয়াল বডি সরেজমিনে বিষয়টি দেখবে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আগামী সপ্তাহের মধ্যে হলের চারপাশে দেয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে উপাচার্য হল প্রভোস্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বনলতা হলের জানালা দিয়ে একটি ল্যাপটপ নেওয়ার চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি টের পেয়ে ছাত্রীরা তাকে ধাওয়া দেন। এক পর্যায়ে ল্যাপটপটি কাদায় ফেলে দিয়ে চোর হলের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।

এ ছাড়া একই হলের আরেক শিক্ষার্থীর দুই হাজার ৬০০ টাকা চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই সময় অপরাজিতা হলে বোরকা, কানের দুল, চার্জার, ইয়ারফোন, চার্জার লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ শিক্ষার্থীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনলতা হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “রাত ২টার দিকে পড়াশোনা শেষ করে ল্যাপটপটি টেবিলে রেখে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোর ৪টার দিকে চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙে। পরে টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমার ল্যাপটপ নেই।

“বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে তোলেন। পরে নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা মিলে ধাওয়া করলে ওই ব্যক্তি ল্যাপটপটি ফেলে পালিয়ে যান।”

বনলতা হলের অন্য এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, “ভোরে গার্ড মামা প্রথম চুরির বিষয়টি টের পান। পরে তিনি জোরে চিৎকার করলে আমাদের ঘুম ভাঙে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই।

“তখন দেখি, মামা একটি লাঠি নিয়ে বলছেন, এখানে চোর ছিল। একটি মেয়ের ল্যাপটপ জানালার বাইরে পড়ে ছিল। মামার ধারণা, চোর ল্যাপটপটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাকে দেখে পালিয়ে যায়। পরে জানতে পারি, নিচতলা থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে।”

হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা হলে থাকি এবং নিজেদের জন্য নিরাপদ মনে করি। তাই গরমের সময় জানালা খোলা রেখেই ঘুমাই। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আমাদের কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে?”

ফার্মেসি বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আজকে আমাদের হলে চুরি হয়েছে। এটা তো একদমই আমাদের জন্য কাম্য না। আজকে ছোটোখাটো জিনিস চুরি হইল, যা হওয়ার তা তো চুরি হইছে আরও বড় কিছু চুরি হইতে পারত।

“যাই হোক, প্রশাসনের থেকে এইটা আসলে এক্সপেক্টেড না। দারোয়ানরা তো হচ্ছে সব সময়ই হলে সজাগ থাকার কথা। যেহেতু রাতের বেলা চুরি হচ্ছে, ফলে আরও বেশি করে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলব।”

ঘটনার খবর পেয়ে সকালে দুই হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টরা নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বনলতা হলের প্রভোস্ট সানজিদা হক। বলেন, “উপাচার্যের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি আগামী সপ্তাহের মধ্যে হলের চারপাশে দেয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে হল প্রভোস্টদের বলেছেন।

“পাশাপাশি হলের বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য কক্ষের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার কারণে একজন নিরাপত্তাকর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা হতে পারে।”

চুরির ঘটনায় দুই হলের নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রেহানা পারভীন বলেন, “তাদের বাঁশি দেওয়া হয়েছে, যাতে হলে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে বাঁশি বা ঘণ্টা বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করতে পারেন।

“হলের বাকি অংশের প্রাচীর নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত আলোর জন্য হ্যালোজেন লাইট লাগাতে হল প্রভোস্টদের নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য।”