রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ খুন: ‘আরসা সন্ত্রাসী’ সাব্বির গ্রেপ্তার
২০২১ সালের ২২ অক্টোবর রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলায় ৬ জন নিহত হয়।
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ছয় খুন মামলার এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন।
রোববার মধ্যরাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ময়নারঘোনা ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এম-১৯ ব্লকে এ অভিযান চালানো হয় বলে এপিবিএন-৮ এর অধিনায়ক মো. আমির জাফর জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার সাব্বির আহমদ ওরফে লালু (৩০) ময়নারঘোনা ১৮ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ই-ব্লকের বাসিন্দা।
মো. আমির জাফর বলেন, “গ্রেপ্তার সাব্বির ওরফে লালু মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসার শীর্ষ কমান্ডার। তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে সংঘটিত ছয় খুন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে উখিয়া থানায় ছয়টির বেশি মামলা রয়েছে।”
২০২১ সালের ২২ অক্টোবর রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের দারুল উলুম নদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সশস্ত্র হামলায় ৬ জন নিহত হয়। নিহতরা সবাই ওই মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র বা স্বেচ্ছাসেবক।
শুরু থেকেই এ ঘটনায় আরসার সদস্যদের দায়ী করে আসছে আইনশৃংখলা বাহিনী ও রোহিঙ্গারা।
এপিবিএন-৮ এর অধিনায়র আরও জানান, রোববার মধ্যরাতে তাদের কাছে খবর আসে যে ময়নারঘোনা ১৮ নম্বর আশ্রয় শিবিরের এম-১৯ ব্লকে সাব্বির আহমদসহ কিছু সশস্ত্র লোক অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে সেখানে তারা অভিযান চালান। কিন্তু ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চার-পাঁচজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে এদের মধ্যে একজনকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন এপিবিএন সদস্যরা।
পরে তাকে তল্লাশি করে একটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার সাব্বির আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসী।”
তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান মো. আমির জাফর।
আরসা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন। এ সংগঠনের নামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হত্যা, হুমকি, লুট, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধেও কাজ করছে বলে ক্যাম্পগুলোতে প্রচারণা রয়েছে।
