বরগুনায় চিকিৎসকের খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে রাস্তায় সন্তান প্রসব

তিন হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে অন্য হাসপাতালের পথে ছেলেসন্তানের মা হন এই নারী।

বরগুনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 06:34 AM
Updated : 27 July 2022, 06:34 AM

বরগুনায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে এক নারী অন্য হাসাপাতালের পথে সন্তান প্রসব করেছেন।

বরগুনা শহরের পশু হাসপাতাল সড়কে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রিমা বেগম নামে এই নারীর ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

রীমা বরগুনার রিকশাচালক মো. ইব্রাহীমের স্ত্রী।

রীমার শাশুড়ি জানান, মঙ্গলবার সকালে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রীমাকে। সন্ধ্যার পর রীমা যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। সে সময় হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, এ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে না। ক্লিনিকে নিতে বলেন নার্স ও চিকিৎসক।

“আমরা অসহায়ের মত ছটফট করতে থাকি। আমরা গরিব। আবার রীমার অবস্থা খুব খারাপ। তাই তাকে তখন আলরাজি ক্লিনিকে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে ডাক্তার ছিলেন না। তারপর তাকে শেফা হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে ডাক্তার পাইনি।”

ওই হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রীমার ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

আবু হানিফ দোলন নামে এক ব্যক্তি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি আলরাজি ক্লিনিকের সামনে দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন।

“এমন সময় ক্লিনিকের ভেতরে দুই নারীর আহাজারি শুনে তাদের কাছে যাই। পুরো বিষয়টি জানতে পারি। আমি প্রসূতিকে শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাই। দুর্ভাগ্যবশত সেখানেও ডাক্তার ছিলেন না। পরে ডক্টরস কেয়ার নামে আরেকটি ক্লিনিকে ফোন করে জানতে পারি, সেখানে ডাক্তার আছেন। তখন তাকে সেখানে নেওয়ার পথেই সন্তানের জন্ম হয়।”

কী কারণে রীমাকে বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যায়নি সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে সদুত্তর মেলেনি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহরাব উদ্দিন বলেন, “রাতে আমি হাসপাতালে ছিলাম না। রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা না বলে একজন নার্সের পরামর্শে হাসপাতাল থেকে চলে যান।”

তবে শেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ জান্নাতুল আলম লিমা ভূমিকা রাখেন বলে তার দাবি।

লিমা বলেন, তিনি ডিউটি শেষে বাসায় যান। কিছুক্ষণ পর পশু হাসপাতাল সড়কে প্রসূতির সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে আবার হাসপাতালে যান।

“প্রসূতিকে উদ্ধার করে আমাদের এখানে আনা হয়। তখন আমি দেখি তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় অবস্থা খারাপের দিকে। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলি। তবে নবজাতক সুস্থ আছে।”

রীমাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক বলেন, রীমার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। এখন আশঙ্কামুক্ত বলা যায়। ইতোমধ্যেই তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। আরও দুই ব্যাগ রক্ত দিতে হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক