Published : 08 Sep 2022, 12:54 AM
নেত্রকোনার ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ছেলে ও ‘তিন সহযোগীকে’ গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে বুধবার দুপুরে জেলার র্যাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি অধিনায়ক আখের মুহম্মদ জয় জানান।
এদের মধ্যে নিহতের ছেলে তরিকুল ইসলাম ব্প্লিবকে থানা পুলিশ ও তার তিন সহযোগীকে র্যাব গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি করে র্যাব জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার মানিকদির গ্রামের আবদুল আজিজ। তাকে কুপিয়ে গুরুতর অবস্থায় ফেলে গেলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ৩ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় র্যাব-১৪ ও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিজয় কর্মকার, আজহার মিয়া ও তরিকুল ইসলাম রানাকে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে, তরিকুল ইসলাম বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
র্যাবের কোম্পানি অধিনায়ক জানান, নিহত আব্দুল আজিজের ছেলে বিপ্লব একজন মাদকাসক্ত। তিনি মাদক সেবন করে প্রায়ই বাড়ি গিয়ে মাতলামি করতেন। মাদক সেবন থেকে ছেলেকে বিরত রাখতে আব্দুল আজিজ ছেলেকে প্রায়ই শাসন করতে গিয়ে ধমক দিতেন ও মারপিট করতেন।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, এ কারণে বিপ্লব বাবার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দুইদিন আগে গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে একটি দোকানের পেছনে বসে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপ্লব তার বন্ধু বিজয়, রানা, আজাহার, রাসেল ও সাধনকে নগদ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া করেন। হত্যার মিশন সফল করতে দুইটি চাইনিজ কুড়াল কেনার জন্য বিজয়কে আরও দেড় হাজার টাকা দেন বিপ্লব।
“গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে বিপ্লব তার বাবা আব্দুল আজিজকে মোবাইল ফোনে বলেন- ‘আমাকে পুলিশে ধরেছে, ছাড়িয়ে নিয়ে যাও।’”
কোম্পানি অধিনায়ক আখের মুহম্মদ বলেন, নিহত আব্দুল আজিজ ছেলের কথামতো ঘটনাস্থলে গেলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিপ্লব ও আজাহার পেছন থেকে আজিজের হাত ধরেন; রাসেল ও সাধন গামছা দিয়ে গলায় চাপ দিয়ে দুইদিক থেকে টেনে ধরেন। এ অবস্থায় বিজয় ও রানা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আজিজকে গুরুতর অবস্থায় মাটিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত দুইটি চাইনিজ কুড়াল পাশের একটি পুকুরে ফেলে রেখে যান তারা।
“ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিপ্লব নিজেই তার বাবাকে হাসপাতালে নেন; কিন্তু পথে আব্দুল আজিজ মারা যান।”
আসামিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান।