কুষ্টিয়ায় পদ্মার চর থেকে যুবকের ৮ টুকরা লাশ উদ্ধার

বুধবার থেকে মিলন নিখোঁজ ছিলেন। পরে থানায় তার স্ত্রীর করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Feb 2024, 09:49 AM
Updated : 3 Feb 2024, 09:49 AM

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চরে রাতভর অভিযান চালিয়ে এক যুবকের আট টুকরা করা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত ২টায় শুরু করে সকাল পর্যন্ত হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর চরের বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতের খণ্ড খণ্ড দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি।

নিহত ২৭ বছরের মিলন হোসেন দৌলতপুর উপজেলার বাহিরমাদি গ্রামের বাসিন্দা মওলা বক্সের ছেলে।

৯ মাস আগে বিয়ে করা মিলন স্ত্রী মিমি খাতুনসহ কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংয়ের ই-ব্লকের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মিলন হত্যায় জড়িত সন্দেহে সজীব আহমেদ (২৫), জনি আহমেদ (২২) ও সজল আহমেদসহ (২৪) চারজনকে আটক করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শেখ মো. সোহেল রানা বলেন, বুধবার থেকে মিলন নিখোঁজ ছিলেন। তার স্ত্রী মিমি খাতুনের করা সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে সজল ও সজীব নামে দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তারা কীভাবে এবং কেনো এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়েও একটি প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে।

“আটকদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই শনিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পলিথিনে মোড়ানো নিহতের মরদেহের আট খণ্ড পদ্মা নদীর চর থেকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।”

নিহতের স্ত্রী মিমি খাতুন বলেন, “গত ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তার (মিলনের) মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। তখন থেকেই আমি ও আমার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি শুরু করি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।

“মিলনের ব্যবসায়িক পার্টনার সজল ওই দিন সকালে মোবাইল করে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকেই মিলনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমি আগে জানতাম না যে- সজল একজন অস্ত্রধারী ও মাদক সম্পৃক্ত ব্যক্তি। জানলে আমি মিলনকে ওর সঙ্গে মিশতে দিতাম না। ”

মিমির অভিযোগ, “সজল খুব ভয়ংকর লোক, ওর একটা গ্যাং আছে, ওরাই মিলনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই, ফাঁসি চাই।”

পুলিশ জানিয়েছে, আটক সজীব, জনি ও সজল হত্যা, ব্ল্যাকমেইল, মোবাইল নাম্বার ক্লোন বা হ্যাক করে বিকাশের টাকা প্রতারণা, অস্ত্র, মাদকসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র।

কিশোর গ্যাং লিডার খ্যাত সজীব নানা অপরাধে কুষ্টিয়া মডেল থানার প্রায় ডজনাধিক মামলার এজাহার নামীয় আসামি। তার বিরুদ্ধে অনেকগুলি মামলা আদালতে বিচারাধীন।

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি জানান, “এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক ও নিহত মিলন হোসেনের পূর্ব পরিচিতি সজীব, সজল ও জনিকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এদের মধ্যে টাকা-পয়সা ভাগাভাগি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।”

“এ মুহূর্তে এর বেশি বলা যাচ্ছে না। আটক যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা বিস্তারিত জানা যাবে”, বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।