২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নওগাঁয় কলেজ ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষকে পেটাল একদল ব্যক্তি, বাইকে আগুন

“একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমাকে কলেজ মাঠে ফেলে রেখে চলে যায়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 09:33 PM

Updated : 20 Sep 2026, 09:33 PM

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় কাজে যোগদান করতে যাওয়া এক কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়ে ক্যাম্পাসে ফেলে রেখে গেছে একদল ব্যক্তি। এ সময় তারা তার মোটরসাইকেলেও আগুন দেয়।

রোববার দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান জানান।

অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা জুয়েলকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

চিকিৎসাধীন অধ্যক্ষ মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে লাঞ্ছিত করে এবং কলেজ থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা কমিটি আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এই বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে আমি হাই কোর্টে রিট পিটিশন করি এবং পরবর্তীতে শুনানি করে হাই কোর্ট আমাকে কলেজে যোগদান করার জন্য নির্দেশ দেয়।”

তিনি বলেন, “আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে যোগদান করতে যাই। কলেজে ঢুকতেই একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ইশারায় বহিরাগত কিছু লোক কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা আমাকে কলেজ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

“এরপরও সেই বাধা উপেক্ষা করে আমি আমার কক্ষে প্রবেশ করি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝিয়ে নেওয়ার সময় বহিরাগত ৩০-৩৫ লোক কক্ষে প্রবেশ করে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে কক্ষ থেকে টেনেহেঁচড়ে বের করে লাঠি ও রড দিয়ে মারতে শুরু করে।”

তিনি বলেন, “একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমাকে কলেজ মাঠে ফেলে রেখে চলে যায়। তারা আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি হামলাকারী ও তাদের ইন্ধনদাতার বিরুদ্ধে মামলা করবো।”

ইউএনও রাকিবুল হাসান বলেন, “অধ্যক্ষের ওপর হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাণীনগর থানার ওসির সঙ্গে আমি কথা বলেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।”

তিনি বলেন, “আমি যতটুকু জানি, অধ্যক্ষ রাকিবুল হাসান আবাদপুকুর কলেজে স্নাতক শাখা খোলার নাম করে বেশ কিছু লোকজনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিলেন। ওই সব পাওনাদাররা এর আগেও একাধিকবার আমার কাছে অভিযোগও করেছিলেন। চাকরিবঞ্চিত ওই ব্যক্তিরাই বিক্ষুপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা জুয়েল। তিনি বলেছেন, “অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি বলেই তো হাই কোট আমাকে কলেজে যোগদান করার নিদের্শ দিয়েছে।”

রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া হোসেন বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।