ছেলের সামনে মাকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’: আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ
শুক্রবার রাতে নির্যাতিত নারী পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ডাকাতির পর কিশোর ছেলেকে জিম্মি করে মাকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ মামলার আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিক্ষুব্ধ জনতার বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের কালিবাড়ী চর এলাকায় শত শত এলাকাবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসামিদের বসতঘর ভাঙচুর করে।
তবে ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে গফরগাঁও থানার এসআই মোরাদ খান বলেন, আসামিদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে কেউ থানায় কোনো অভিযোগ জানাননি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এক প্রবাসীর বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতি শেষে প্রবাসীর কিশোর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে তার সামনেই মাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়।
শুক্রবার রাতে নির্যাতিত নারী পাঁচজনকে আসামি করে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। এর আগে ঘটনার রাতে অভিযান চালিয়ে রাজিব নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয়রা বলেন, রোব ও সোমবার সন্ধ্যায় দুই দফা বৈঠক করে আসামিদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শত শত গ্রামবাসী একত্র হয়ে আসামি শরীফ, আরিফ, ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে।
বিক্ষুব্ধ জনতা কুড়াল ও লাঠিসোটা নিয়ে আসামিদের টিনের বসতঘরের বেড়া ও চাল ভেঙে ফেলে এবং টিন খুলে বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখে। তবে ঘটনার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, “ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার। অপরাধীদের সামাজিক প্রতিহত করতেই ক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে “
