কুড়িগ্রামে ছুরিকাঘাতে পৌর কর্মচারী খুন, বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রী আহত
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার আগে হলরুমে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি পৌর কর্মচারী পরিষদের এক নেতার।
কুড়িগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান শেষে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পৌর কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রীও।
শনিবার বেলা ৩টার দিকে শহরের কলেজমোড়ে টাউন হলের ভেতর এ ঘটনার পর এক যুবককে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম থানার ওসি কামাল হোসেন।
নিহত মোহাম্মদ মনসুর আলী (৫৫) পৌর এলাকার ছয়আনি পাড়ার প্রয়াত মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মাস্টাররোলের কর্মচারী হিসাবে কাজ করছিলেন।
আহত মনসুর আলী স্ত্রী মল্লিক বেগম (৪৬) কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আটক শাহনেওয়াজ সানি (৩২) পৌরসভার সরদার পাড়া এলাকার মোহাম্মদ জুলহাসের ছেলে।
হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মল্লিকা বেগম বলেন, “আমার স্বামীকে একমুট ভাত খেতে দিল না। সকাল ৭টায় লোকটা কাজে আসছে। কোনো খাওয়া দাওয়া নাই। খিদায় ছটফট করছিল। কিন্তু সরকারি দায়িত্বের কারণে আমাকে বলেন, ‘একটু বসো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে আরাম করে খাব।’
“কি থেকে যে কি হয়ে গেল, হঠাৎ করে ওই ছেলেটার সঙ্গে তর্কাতর্কি, তারপর ছুরি মেরে দিল। স্বামীকে বাঁচাতে পারলাম না। আমাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। ভাত খেতে পারল না আমার স্বামী, লুটিয়ে পড়ল মেঝেতে। রক্তের স্রোত। আমি বিচার চাই। জীবনটা অন্ধকার হয়ে গেল।”
কুড়িগ্রাম পৌরসভার কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, কুড়িগ্রাম টাউন হলের কেয়ার টেকার হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মনসুর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সকাল থেকে দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তিনি বলেন, দুপুরে আলোচনা সভা শেষ হলে মনসুর পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য হলরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন। বেলা ৩টার দিকে তার স্ত্রী দুপুরের খাবার নিয়ে আসেন। কিন্তু মনসুর পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
“অল্পকিছু সময় পরে সানি অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতে চাইলে বাধা দেন মনসুর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষে তাকে আসতে বলেন মনসুর। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সানি তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে মনসুরের বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়”, বলেন মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি দেখে আশপাশের লোকজন ও রিকশা চালকরা ছুটে এসে সানিকে আটক করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মনসুর ও মল্লিকাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মনসুর মারা যান।
ওসি কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আটক যুবক মাদকাসক্ত বলে লোকমুখে শুনেছেন তিনি।
খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ হতাহতদের হাসপাতালে দেখতে যান। এ সময় তারা নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। সেইসঙ্গে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
