‘অনুমতি ছাড়া’ গাছ কেটেছে কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার

বনবিভাগ বলছে, এই ধরনের গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন।

ফজলে এলাহীরাঙামাটি প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Sept 2022, 06:36 PM
Updated : 21 Sept 2022, 06:36 PM

রাঙামাটির কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারে ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য অনুমতি ছাড়াই বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে।

বুধবার বিকালে কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি সদরে অবস্থিত এই হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন নির্মাণের জায়গায় বিভিন্ন ধরনের বড় বড় বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে।

পাশে গিয়ে চোখে পড়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গিয়ে কাটা হয়েছে অনেক দিনের পুরনো জাম, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ।

সেখানে কর্মরত কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  বুধবারও কিছু গাছ কাটা হয়েছে। তারা কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুজামান ইমরান জানান, সম্প্রতি কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের পুরাতন ভবনের সম্প্রসারণের জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এছাড়া পুরাতন ভবনের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে।

তবে সীমানা প্রাচীরের জায়গায় গাছ কর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সীমানায় যে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ রয়েছে তাকে কেবলমাত্র গাছের ডালপালা কাটতে বলা হয়েছে। ওখানে যে বড় বড় কিছু গাছ কাটা হয়েছে ওই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

তিনি ঘটনা শোনার পর সরজমিনে গিয়ে দেখবেন বলে জানান।

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে গাছ কাটা হয়েছে তার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাসিক একটি সমন্বয় সভায় গাছ কাটার বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিল।”

 তবে অনুমতি পাওয়া গেছে কিনা এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

 এদিকে কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের সীমানা প্রাচীরের পাশে যিনি গাছ কেটেছেন তার নাম আপাই মারমা।

 এ বিষয়ে আপাই মারমা বলেন, কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি গাছ গুলো কেটেছেন। এছাড়া এগুলো তার মালিকানাধীন গাছ। এর আগেও তার বাগানের গাছগুলো কোনো অনুমতি ছাড়াই কেটেছেন তিনি।

 কাপ্তাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হক মুরাদ জানান, এই ধরনের গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট বন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন। তবে কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার অনুমতি নিয়েছে কিনা এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।

 কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান বলেন, “কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টারের গাছ কাটার বিষয়ে অনুমতির বিষয়টা অনুমোদন হয়েছে কিনা আমার ঠিক মনে পড়ছে না; এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে জানানো হবে।”

 এদিকে এইভাবে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃক অনেকদিনের পুরাতন গাছগুলো কেটে ফেলার বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর পরিচালক হেফাজত সবুজ বলছেন, “প্রয়োজনে যে কেউই গাছ কাটতে পারবে, তবে সেটা অবশ্যই অনুমতি সাপেক্ষে হতে হবে। কাপ্তাই হর্টিকালচার সেন্টার যেভাবে ফ্রি-স্টাইলে গাছ কাটছে এবং অনুমতি আদৌ আছে কিনা সেটা সংশ্লিষ্টরাই কেউই জানেনা। আমরা এই অনুমতিহীন অপ্রয়োজনীয় বৃক্ষ নিধনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আশা করছি প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক