Published : 25 Oct 2022, 07:42 PM
রংপুরে বিএনপি ও ছাত্রলীগের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতিতে। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা।
বিএনপি নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশে বাধা দেওয়া হলে পুরো রংপুরকে অচল করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি নৈরাজ্য করলে তা প্রতিরোধ করা হবে। দুপক্ষের এই অনড় অবস্থান ও হুমকি-পাল্টা হুমকিতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা।
তবে প্রশাসন এখনও কোনো পক্ষকেই সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।
জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নেতাকর্মীদের হত্যা, হামলা ও মামলার প্রতিবাদে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সারাদেশের আট বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার রংপুরে সমাবেশ আয়োজন করেছে বিএনপি। সমাবেশ সফল করতে প্রতিদিনই রংপুরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা চলছে। সমাবেশে উপস্থিতি বাড়াতে প্রচারপত্র বিতরণ, জনসংযোগ, পথসভা করছেন নেতাকর্মীরা।
এ সমাবেশের জন্য রংপুর জিলা স্কুল মাঠ চেয়ে আবেদন করেছে বিএনপি।
অন্যদিকে এই সমাবেশের দু’দিন আগে বৃহস্পতিবার একই মাঠে বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
গত রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সমাবেশের তথ্য জানানো হয়।
যদিও এ সমাবেশটি এক সপ্তাহ আগে শনিবার রংপুরের পীরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়।
রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। স্কুলও খোলা। এ কারণে সমাবেশ করার জন্য কোনো পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি কাউকে সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়, তা ভিন্ন বিষয়।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বকর সিদ্দীক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এ বিষয়ে আবেদন পেয়েছি। তবে এখনও অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।”
বিএনপি নেতারা বলছেন, মাঠ চেয়ে অনুমতি পাওয়া না গেলেও পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ হবে। এ বিষয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে তারা রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করার চিন্তা করছেন। সমাবেশ ঘিরে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
যত বাধাই আসুক, রংপুরের সমাবেশকে অন্যান্য তিনটি সমাবেশের চেয়ে বড় করার দৃঢ় অবস্থান ও পরিকল্পনা রয়েছে দায়িত্বশীল নেতাদের।
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ-উন নবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সমাবেশ সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা- রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় সফর করছেন।
এ সফর শেষে বৃহস্পতিবার থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে অবস্থান করবেন বলে তিনি জানান।
ছাত্রলীগের সমাবেশ নিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রলীগের সমাবেশ পিছিয়ে বিএনপির সমাবেশের দু’দিন আগে আনা হয়েছে। একই স্থানে হলেও কিন্তু পৃথক দিন হওয়ায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।”
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জনস্রোতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে রংপুরের গণসমাবেশে।
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১০ দিন আগে বিভাগীয় সমাবেশের স্থান রংপুর জিলা স্কুল মাঠের অনুমতি চেয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে তারা আবেদন করেছেন। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনের কপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এর পরিবর্তে একটু অদূরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করার জন্য মৌখিকভাবে বলেছে। এতে তাদের তেমন কোনো আপত্তি নেই। কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠটিও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
এদিকে বিভাগীয় ছাত্রলীগের সমাবেশ ঘিরেও চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি। এই সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগমের জন্য বিভাগের প্রত্যেক থানা, ওয়ার্ড, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে চলছে সভা-সমাবেশ। ওই দিন নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে আনার জন্য নেওয়া হয়েছে নানাবিধ পরিকল্পনা।
বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশ সম্পর্কে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাব্বির আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা এই সমাবেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এতে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। এই সমাবেশ থেকেই তারা বিএনপির নৈরাজ্য প্রতিহত করার ঘোষণা দেবেন।
রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করলে কোনো সমস্যা নেই। যদি তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা প্রতিহত করব।”
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, “বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলে স্বাগত জানাব। নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তাদেরই দায়ভার নিতে হবে।”