Published : 23 Jun 2023, 07:15 PM
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনও কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার ৯ উপজেলার নদ-নদীতে পানি কমলেও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় নতুন জেগে ওঠা চরাঞ্চলের ঘরবাড়িগুলো পাঁচ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নৌকা ও উঁচু স্থানে অবস্থান করলেও শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। এতে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের ভোগান্তি বেড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার পূর্ব বালাডোবা, কালির আলগা, মুসারচর ও সদরের পোড়ার চরসহ ১০টি চরে বসবাসকারী দুই শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নৌকা ও উঁচু জায়গায় অবস্থান করছেন।
ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকায় ঠিকমতো রান্না করতে পারছেন না তারা। পাশাপাশি পরিবারগুলোর হাতে কোনো কাজ না থাকায় শুকনো খাবার এবং নলকূপ তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট হয়েছে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এদিকে নদ-নদীর অববাহিকার গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিস্তীর্ণ এলাকার জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা।
কুড়িগ্রাম পাউবোর তথ্য মতে, কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীতে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুর ১২টায় জেলার পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এছাড়া কুড়িগ্রাম সদরের ধরলার সেতু পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৫৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৬১ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৮৯ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় পাউবো।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব বালাডোবার চরের আব্দুর রহমান জানান, চরটিতে ৪০টি পরিবারের বসবাস। চরটি নতুন এবং নিচু হওয়ায় বেশির ভাগ ঘরবাড়িতে কোমর সমান পানি। অনেকেই ঘর বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গা ও নৌকায় বসবাস করছেন। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকমত রান্না করতে না পারায় একবেলা খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।
সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ার মমিন বলেন, “নদীর পানি কমলেও এখনও বাড়ির চারদিক তলিয়ে রয়েছে। আবার পানি বৃদ্ধি পায় কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি। পটলসহ সব সবজি ক্ষেত পানির নিচে। এবারের বন্যায় খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।”
পাউবো কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। যদি আর বৃষ্টিপাত না হয় তবে দ্রুতই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। নগদ অর্থ শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। যেখানে যখন প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল