২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

বুধবার সন্ধ্যায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাটেশ্বরী সোনাহাট রেলসেতু পয়েন্টে দুধকুমার নদ বিপৎসীমার সমান্তরালে প্রবাহিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2023, 09:30 PM

Updated : 21 Jun 2023, 10:09 PM

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ২৫০ মিটার ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়ানী পাড়া এলাকায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ছাড়া বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাটেশ্বরী সোনাহাট রেলসেতু পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার সমান্তরালে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রাতেই সীমা অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক চরাঞ্চলে ৭/৮ লাখ মানুষের বসবাস। পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারি বৃষ্টিপাতে নদ-নদীগুলোতে পানি বেড়ে যাওয়া ও বাঁধে ভাঙনের ফলে নদী অববাহিকার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের বাড়িগুলো প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকার মানুষ নৌকা-ভেলা করে চলাচল করছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে সবজি, আমনের চারা ও পাটক্ষেত।

ওই ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবেদ আলী জানান, মঙ্গলবার বিকাল থেকে তেলিয়ানীতে তার বাড়ির পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে দুধকুমারের পানি লোকালয়ে ঢুকতে থাকে। ক্রমে মাটি ক্ষয়ে স্রোতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বড় বড় গর্ত হয়ে তলিয়ে যেতে থাকে বাঁধে থাকা জিও ব্যাগ। এক সময় স্রোতের তীব্রতায় ভেঙে যায় প্রায় ২৫০ মিটার বাঁধ।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের উত্তর নওয়াবশ গ্রামের বাসিন্দা মর্জিনা বেগম জানান, প্রায় তিনদিন হলো তার বাড়িতে পানি উঠেছে।

মঙ্গলবার বাধ্য হয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

একই এলাকার সবজি চাষি বিপ্লব বলেন, “প্রায় এক বিঘা জমিতে পটল আবাদ করেন তিনি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে, কিন্তু দু’তিন দিনের মধ্যে পানি এসে সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে; পটলও নষ্ট হয়ে গেছে।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, তার ইউনিয়নে বন্যার পানিতে কমপক্ষে ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুহিন মিয়া জানান, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৯ মিলিমিটার এবং পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় আরও ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যা মোকাবেলার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় ৫৪১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন হবে তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করা হবে। বন্যাদুর্গতদের পাশে থাকার জন্য সব ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।