Published : 29 Jan 2024, 09:25 PM
ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হওয়া সেই তরুণী এবার ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন।
ওই তরুণীর ভাষ্য, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়নি; তাকে কেউ তুলে নিয়ে যায়নি।
সোনাডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে ওই তরুণীকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা থানায় হাজির হয়ে এমন দাবি করেন।
পরে ওই তরুণী সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতে দুজন তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করান। পরদিন বিকালে সেখান থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি নিজের ইচ্ছায় গাড়িতে করে রওনা দেন।
পরে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখান থেকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে খবর দিলে আবারও থানায় আসেন বলে ভাষ্য ওই তরুণীর। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার মা ও এক মামি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকালে ওই তরুণী ও তার মাকে টেনে হেঁচড়ে যে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই গাড়িতেই তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাদের সঙ্গে গাড়িতে কয়েকজন যুবককে দেখা গেছে। পরে রাতে থানা থেকে তাদের ওই গাড়িতে করেই ডুমুরিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল বলেন, “শুনেছি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে একটি মেয়েকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামান জড়িত আছেন।
“সে জন্য ওই তরুণীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এখন ওই তরুণী নিজে এসে দাবি করছেন, তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়নি।”
অপহরণের বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি; করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আমিনুল।
শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হন ওই তরুণী। তখন তরুণীর পরিবার চিকিৎসকদের কাছে অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ নিজ কার্যালয়ে নিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেছেন।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
রোববার বিকালে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ওসিসির সামনে আগে থেকে একটি মাইক্রোবাসে ১০-১২ জন ব্যক্তি ওই তরুণী ও তার মাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান।
তবে উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে একটি মহল।”
খুলনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী কিংবা তার পরিবার কেউ পুলিশের কাছে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
ধর্ষণের অভিযোগ তোলা তরুণীকে খুলনা হাসপাতাল চত্বর থেকে ‘অপহরণ’