ইটভাটায় শ্রমিককে শেকলে বেঁধে ‘নির্যাতন’, উদ্ধার

ময়মনসিংহে এ ঘটনায় ইটভাটা মালিক ও ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Feb 2024, 04:55 PM
Updated : 10 Feb 2024, 04:55 PM

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ইটভাটার একটি ঘরে পায়ে শেকল বেঁধে এক শ্রমিককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শুক্রবার বিকালে উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নব্বইয়ের বাজারের পাশে আব্দুল গনি ব্রিকস ইটভাটা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা। 

উদ্ধার হওয়া সবুজ আলী (৩৬) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আবজাল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ইটভাটা শ্রমিক।

এ ঘটনায় সবুজের বাবা তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ইটভাটা মালিক ও ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ছানিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে ইটভাটা মালিক খাইরুল আলম রাসেল ও ব্যবস্থাপক আসাদুল্লাহ মিয়া। 

শনিবার বিকালে গ্রেপ্তারদের আদালতে তোলা হলে বিচারক সিফাত উল্লাহ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানায় পুলিশ। 

দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাছুম বলেন, “সবুজ ৪০ দিন আগে ইটভাটা সর্দার আনসার আলীর নেতৃত্বে ১৮ জনের একটি দলের সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জের ওই ভাটায় কাজ করতে আসেন। কাজ শুরুর আগে আনসার ওই ভাটার মালিক খাইরুলের সঙ্গে তিন লাখ টাকায় চুক্তি করেন।

“৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তির টাকা নিয়ে সবুজকে ইটভাটায় রেখে আনসার অন্য শ্রমিকদের নিয়ে কাউকে কিছু না বলে চলে যান। এ ঘটনার জেরে ভাটা মালিক খাইরুল ব্যবস্থাপকের কক্ষে সবুজকে শেকলে বেঁধে নির্যাতন ও টাকার জন্য চাপ দেন।” 

ঘটনার পাঁচ দিন পর স্থানীয়দের মাধ্যমে কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সবুজকে উদ্ধার করে বলে জানান পুলিশ সুপার। 

তিনি বলেন, সবুজকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।