Published : 17 Feb 2023, 03:18 PM
সিলেটের তিনটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীকে ধারণ করে নকশা করা হয়েছে নগরীর কদমতলী বাস টার্মিনালের; যেখানে যে কোনো ধরনের যাত্রী তাদের চাহিদামতো সব সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, টার্মিনালের নকশা প্রণয়নে সিলেটের ঐতিহ্য ক্বিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি এবং আসাম টাইপ বাংলোর স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী এক মাসের মধ্যে কদমতলী বাস টার্মিনাল পুরোদমে চালু হবে। টুকটাক কাজ বাকি রয়েছে; এগুলো শেষ হলেই উদ্বোধন করা হবে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক পরিবহন ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।”
বাস টার্মিনালের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডালি কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের জন্য স্টিলের টিন থাইওয়ান থেকে আনা হয়। স্টিল স্ট্রাকচারের জন্য লোহার বার আনা হয়েছে চায়না থেকে। প্রতিটি উপাদান বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

“এখানে বিমানবন্দরের মতো বিশাল ওয়েটিং স্পেস রাখা হয়েছে। আছে পার্কিং জোন ও গাছপালা আচ্ছাদিত গ্রিন জোন। সব-মিলিয়ে এটি হবে দেশের অন্যতম সুন্দর একটি স্থাপনা।“
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আট একর জমির ওপর ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ‘মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট সার্ভিস প্রজেক্ট-এমজিএসপি’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে ‘কদমতলী বাস টার্মিনাল’।

টার্মিনালের নকশা করেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক সুব্রত দাশ, রবিন দে ও মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
ছয়তলা ভিত্তির তিনতলা কমপ্লেক্সটি তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অংশের ‘বহির্গমন ভবন’ দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩০০ ফুট। এই অংশে ৪৮টি বাস একসঙ্গে থাকতে পারবে। এ ছাড়া যাত্রীদের বসার জন্য রয়েছে ৯৭০ আসনের বিশাল হল। রয়েছে ৩০ আসনের ভিআইপি কক্ষ, ৩০টি টিকিট কাউন্টার ও নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ।

রয়েছে পুরুষ, নারী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের ব্যবহার উপযোগী ছয়টি টয়লেট। প্রয়োজনে হুইল চেয়ার নিয়েও টয়লেট ব্যবহার করা যাবে। উপরে উঠার জন্য রয়েছে লিফট এবং খাবারের জন্য রেস্টুরেন্ট ও ফুড কোর্ট। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়া যাত্রীর জন্য আলাদা শয্যা ও ব্রেস্ট ফিডিং জোন রয়েছে।

দ্বিতীয় অংশে ‘আগমনী ভবন’ প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের। এখানে রয়েছে বাস বে, ৫১০ আসনের বসার স্থান ও ৩০ আসনের ভিআইপি কক্ষ, আধুনিক টয়লেট সুবিধা, ব্রেস্ট ফিডিং জোন, লিফট, রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য সুবিধা। ‘আগমন ভবন’ ও ‘বহির্গমন ভবন’ আলাদা করা হলেও করিডোরের মাধ্যমে পুরো স্থাপনাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই ভবনের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে সড়কের সঙ্গে গোলাকার পাঁচতলা টাওয়ার ভবনে রয়েছে টার্মিনাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়। যেখানে থাকবে পুরো টার্মিনালের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও সিসিটিভি মনিটরিং কক্ষ, পুলিশ কক্ষ ও পর্যটন কার্যালয়।
টার্মিনালের পেছনের দিকে তৃতীয় অংশে নির্মিত হয়েছে একটি মাল্টিপারপাস ওয়েলফেয়ার সেন্টার। যেখানে মালিক ও চালক সমিতির জন্য থাকবে ২৪ বেডের বিশ্রামকক্ষ, ক্যান্টিন, সভা অনুষ্ঠানের জন্য মাল্টিপারপাস মিলনায়তন। যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়ার্কশপ স্থাপন করা হয়েছে।

গত বুধবার প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বাস প্রবেশ করে টার্মিনালে। এ সময় যাত্রী নামানো ও বাস ব্যবস্থাপনা করা হয়।
পরীক্ষামূলক সেবা চালুর সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশসেরা সুযোগসুবিধা সম্পন্ন এই বাস টার্মিনাল সিলেটের জন্য গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান। টার্মিনালটি চালু হলে পরিবহন ব্যবস্থায় সিলেট বিশ্বমানে যুক্ত হবে।
মেয়র বলেন, “এখানে যেসব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে সবাইকে। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবে না। যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে বাস টার্মিনালের সেবা বিঘ্ন করা যাবে না।“