তিস্তায় পানি বৃদ্ধি, লালমনিরহাটে বহু পরিবার পানিবন্দি

পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

আনিছুর রহমান লাডলা, লালমনিরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 03:42 PM
Updated : 2 August 2022, 03:42 PM

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাটের চার উপজেলায় বহু পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা-উদ-দৌল্লা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যারাজের ভাটিতে থাকা হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদী তীরবতী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ে মানুষজন।

সোমবার বিকালে নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল বলে আসফা-উদ-দৌল্লা জানান।

জেলা সদর, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও পাটগ্রাম উপজেলায় নদীর তীরবর্তী বহু এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সকালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীপাড়ের অনেকেই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। আবার অনেকেই তাদের গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে গাদাগাদি করে অবস্থান করেছেন। বিপাকে পড়েছে স্কুল শিক্ষার্থীরাও।

সেখানে গোবরধন এম এইচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবরধন হায়দারীয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, গোবরধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদর উপজেলার কালমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কোমড় পরিমাণ পানি ওঠায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

সেখানে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তায়ও হা্ঁটু পানি ওঠায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে বানভাসি মানুষদের।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন (৫৫) বলেন, “এমন পানি এ বছর আর চোখে পড়েনি।”

আদিতমারীর মহিষখোচা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, হঠাৎ করে রাতেই তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের পানি বৃদ্ধি এলাকা পরিদর্শন করেছেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জি আর সারোয়ার। এ সময় উপজেলা কৃষি অফিসার হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফা-উদ-দৌল্লা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে তিস্তাপাড়ের মানুষকে সর্তক করার পাশাপাশি সকল প্রকার দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। এছাড়া বন্যাতদের জন্য ৩ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বিতরণের জন্য বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক