‘চিম্বুক পাহাড়ে প্রথম পাঠাগার’

পাঠাগারটি নাম ‘সাংচিয়া তেকরা, সাংচিয়া শোনতারা কিম’, যার বাংলা ‘গল্প বলা, গল্প শোনা’।

বান্দরবান প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 04:08 PM
Updated : 5 August 2022, 04:08 PM

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠাগার চালু করেছেন ম্রো ভাষার লেখক-গবেষক ইয়াঙান ম্রো।

জেলার ১৬ মাইল এলাকায় চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে রামরিপাড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে এই পাঠাগার। এটি জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে।

শুক্রবার সকালে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি কলেজের প্রভাষক শিক্ষক অমর বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা এটি উদ্বোধন করেন।

ম্রো ভাষায় পাঠাগারটি নাম রাখা হয়েছে ‘সাংচিয়া তেকরা, সাংচিয়া শোনতারা কিম’। বাংলা অর্থ ‘গল্প বলা, গল্প শোনা’।

ইয়াঙান ম্রো বলেন, যে ঘরটিকে পাঠাগার করা হয়েছে সেটি ছিল জুমঘর।

“এখানে আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জুমচাষ করে আসছিল। এ ঘরে বসে ম্রোদের বিভিন্ন রূপকথার কাহিনি ও গল্প শোনাতেন বাবা-মা। তারা দুইজনই এখন প্রয়াত। ঘরটিকে কোনো একসময় পাঠাগার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তারাই বলে গেছেন। তাই বাবা-মায়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং ছেলেমেয়েদের পাঠ্যাভাস গড়ে তুলতে এই পাঠাগারটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এখনকার ছেলে-মেয়েরা ম্রো সমাজের গল্প থেকে বঞ্চিত। স্কুল বন্ধের দিনে শিশু শিক্ষার্থীদের এসব কাহিনি ও রূপকথার গল্প শোনানো হবে এখানে। পাশাপাশি স্কুলের পাঠ্য বইয়ের বাইরে ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য এ উদ্যোগ।’’

ইয়াঙান ম্রো ২০১২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এ পর্যন্ত তার ২৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সেগুলোর ১৯টি ম্রো ভাষায় ও ১০টি বাংলা ভাষায় লেখা। যার মধ্যে ম্রো ভাষায় রূপকথার গল্প, ম্রোদের লোককাহিনি, ক্রামা ধর্ম ও ম্রো ভাষার ব্যাকরণ বই অন্যতম।

ইয়াঙান ম্রো বলেন, “রামরিপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ছাত্রাবাস আছে। এছাড়া আশপাশে আরও কিছু পাড়া আছে। ছুটির দিনে এসব পাড়ার শিশু শিক্ষার্থীদের গল্পের বই পড়ে শোনানো হবে। শুধু শিশুতোষ বই-ই নয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপযোগী বইও থাকবে। পাঠাগারটি কেবল শুরু করা হয়েছে। এটি বড় করে গড়ে তোলা হবে। এখনও ঘরটি ছোট, কিন্তু স্বপ্ন অনেক বড়।”

উদ্বোধনী বক্তব্যে কলেজশিক্ষক অমর বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “প্রত্যেক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আলাদা রূপকথার গল্প ও বৈচিত্র্যময় কাহিনি আছে। বয়স্ক ব্যক্তিরা একসময় বিভিন্ন গল্প-কাহিনি শুনিয়ে গেছেন। এখনকার ছেলেমেয়েরা সেগুলো জানার সুযোগ পায় না। ইয়াঙান পুরনো বিভিন্ন কাহিনি ও রূপকথার গল্প সংগ্রহ করে এবং বই আকারে বের করে শিশুদের পড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন, একসময় তা গোটা চিম্বুক পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়বে।”

চিম্বুক পাহাড়ের কৃষি উদ্যোক্তা তয়ো ম্রো ও রুমা উপজেলার রুইফো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মেনচং ম্রো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন।

তারা বলেন, চিম্বুক পাহাড়ে অনেক ম্রো পাড়া থাকলেও আগে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কেউ ছিল না। পাঠাগারে এসে বই পড়ার মাধ্যমে শিশুরা ভাল কিছু শিখতে পারবে। ম্রো শিশুরা লেখাপড়া শিখতে আরও উৎসাহিত হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক