পদ্মায় বালু তোলার প্রতিবাদের জেরে ঈশ্বরদীতে হামলা, ২ জন গুলিবিদ্ধ
হামলার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আহতদের স্বজনরা রাতেই প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মানদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় স্থানীয়দের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এতে দুজন মাথায় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন মারাত্মক আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বড়পাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নে পদ্মানদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে মানববন্ধনের আয়োজন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা বলেন, বালু তোলার বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন আরামবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অয়ন (১৭)। সোমবার রাতে স্থানীয় মাঝদিয়ায় পদ্মার তীরসংলগ্ন একটি কফি হাউজে তিনিসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিতভাবে সেখানে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় কফি খেতে আসা আকাশ খাঁ (২৬) ও সানোয়ার হোসেন (২৬) নামের দুই যুবকের মাথায় গুলি লাগে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে অয়নের মাথায়ও কোপ দেয়।
এছাড়া হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে অয়নের বড় ভাই অন্তরসহ ৫-৭ জন গুরুতর আহত হন।
গুলিবিদ্ধ আকাশ খাঁ জানান, “সন্ধ্যায় কফি হাউজে থাকাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে গোলাগুলি শুরু হয়। দৌড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টার সময় একটি গুলি সরাসরি আমার মাথায় এসে লাগে।”
হামলার ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আহতদের স্বজনরা রাতেই একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
তারা সশস্ত্র হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত বালুখেকো চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা থানার সামনে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
এ ঘটনার পর থেকে সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
অবৈধ বালু উত্তোলন ও পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
