মজুদ সারে দুর্নীতি: বিএডিসির ২ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

ভৈরবে বিএডিসির মজুদ করা সার কম পাওয়ায় বিএডিসির দুই কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন এবং আরও তিন ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
Published : 24 July 2022, 05:07 PM
Updated : 24 July 2022, 05:07 PM

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএডিসির মজুদ সারে দুর্নীতির মামলায় বিএডিসির দুই কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ময়মনসিংহের একটি আদালত।

একই মামলায় আরও তিন ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার বিকালে ময়মনসিংহের বিশেষ জজ মো. শাহাদত হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন কিশোরগঞ্জ বিএডিসির (সার) সাবেক যুগ্ম পরিচালক আহাদ আলী ও ভৈরবের বিএডিসির (সার) ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম।

সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নরসিংদীর হাজীপুর নয়াপাড়ার প্রয়াত ফজলু মিয়ার ছেলে মো. হারিছুল হক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম বাঙ্গালপাড়ার প্রয়াত চুনীলাল রায়ের ছেলে লিটন রায় ও নরসিংদীর বেলাবোর মো. মজিবুর রহমান খানের ছেলে সারোয়ারুল আলম সবুজ।

ময়মনসিংহ আদালতের দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি কাজী শফিকুল হাসান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির মধ্যে আহাদ আলীকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়, যা অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছর কারাভোগ করতে হবে।

একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় আসামি আহাদ আলীকে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ২২ কোটি ২৩ লাখ ২ হাজার ১৬৪ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

আসামি রেজাউল করিমকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়; একই সঙ্গে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়, যা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া তাকে দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ২২ কোটি ২৩ লাখ ২ হাজার ১৬৪ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

দণ্ডের অর্থ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পিপি শফিকুল।

অপর তিন আসামি হারিসুল হক, লিটন রায় ও সারোয়ার আলম সবুজকে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

একই সঙ্গে এই তিন আসামিকে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মজুদ সার না থাকায় ও সারের ঘাটতি হওয়ায় কিশোরগঞ্জ বিএডিসির (সার) যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ শেখ বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ১০ জুলাই দুদক মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার শুনানিতে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মামলা চলা অবস্থায় দুই আসামি খোরশেদ আলম ও রতন মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সঞ্জীব সরকার ও কাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, “এটি যুগান্তকারী একটি রায়। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মধ্যে আইনভীতি সৃষ্টি হবে বলে মনে করছি।”

আসামি আহাদ আলীর আইনজীবী মো. ফজলুল হক বলেন, “আমরা এই রায়ে ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয়েছি। ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক